চকরিয়ায় অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পেলো র‌্যাব : বিপুল সংখ্যক অস্ত্র, গুলি, অস্ত্র তৈরির মেশিন, সরঞ্জামসহ আটক-৫

8765.jpg

শহীদুল্লাহ্ কায়সার ॥
জেলার চকরিয়া উপজেলায় দু’টি দেশীয় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব-৭। ৪ ডিসেম্বর শনিবার উপজেলাটির চিরিংগা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ দোলখালী পাড়া এবং চরণদ্বীপ একানব্বই পাড়ায় র‌্যাবের এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে এসব অস্ত্র কারখানা জব্দ করা হয়। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ টি দেশীয় অস্ত্র, বিপুল সংখ্যক গুলি এবং অস্ত্র তৈরির মেশিন ও সরঞ্জাম। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা অবৈধভাবে অস্ত্র তৈরির দায়ে ১ নারীসহ ৫ জনকে আটক করেন।
ধৃতরা হলো, কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরুং ১ নং ওয়ার্ডের ধলা মিয়া মাঝির পুত্র আব্দুল মান্নান ও আইয়ুব খান, চকরিয়া উপজেলার ইতমনি পাড়ার আব্দুল বাসুদ ওরফে বাসুর পুত্র নুরুল আলম, কুতুবদিয়া উপজেলার কাজিরপাড়া গ্রামের আমির হোসেন’র পুত্র মহিউদ্দিন ওরফে মহিন মিয়া। পরে আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাদের সূত্র ধরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে চিরিংগা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আটক করা হয় চিরিংগা ইউইনয়নের চরণদ্বীপ ছাড়িয়াখালী এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী জোনুয়ারা বেগম এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মৃত ইদ্রিছ আহমদের পুত্র নুরুল্লাকে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে ৮টি এসবিবিএল, ১টি ডিবিবিএল,২টি পয়েন্ট থ্রি জিরো থ্রি দেশীয় তৈরি রাইফেল, ১টি পয়েন্ট টু টু দেশীয় তৈরি রাইফেল, ৮টি এ নলা বন্দুক, ৪৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ৪টি পয়েন্ট থ্রি জিরো থ্রি রাইফেলের গুলি রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রের কারখানাটি থেকে ৩টি পোচ, ২টি পোচ বেল্ট, ২টি লেদ মেশিন, ১টি হ্যান্ড ড্রিল, ২টি হেক্সা মেশিন, হেক্সাব্লেড, ৩টি ট্রিগার গার্ড, ১টি বন্দুকের বাট, ৪টি পাইপ, ৩টি হাতুড়ি, স্ক্রু ড্রাইভার, রেদ, কাটিং মেশিন, বাটাল, স্প্রিং, নাট/ভোল্ট’র মতো অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পুরো অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-৭ সিপিপি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মাহমুদ হাসান তারিক, সিনিয়র এএসপি শাহেদা সুলতানা এবং এএসপি সৈয়দ মোহসিনুল হক।
9876547
চকরিয়ায় অস্ত্রের কারখানা জব্দের অভিযান শেষের পর বিকেল সাড়ে ৩ টায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মাহমুদ হাসান তারেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ সদস্যরা অস্ত্র কারখানায় অভিযান চালায়। এরপরই সেখানে থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র, গুলি, অস্ত্রতৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা সহ আটক করা হয় অস্ত্র তৈরির হোতাদের। সেখানে আরো কয়েকটি অস্ত্র কারখানা থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আটককৃতদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে আরো অনেক তথ্য জানা যেতে পারে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।