চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দু’প্রার্থী সহ ৯৪ জন মনোনয়ন জমা দিলেন : সদস্য পদে টেকনাফে শফিক মিয়া ও জহির হোসেন

dist-council-election_31947_1480098781.jpg

শহীদুল্লাহ্ কায়সার ॥
আগামি ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদান শেষ হয়েছে। গতকাল ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ ছাড়া গতকাল পর্যন্ত ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের বিপরীতে সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৭১ প্রার্থী। সংরক্ষিত ৫টি ওয়ার্ডে মনোনয়ন পত্র ২১ জন। প্রার্থী হওয়ার আশায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী খুরশিদা করিম চৌধুরী এবং ফরিদা ইয়াছমিন অভিযোগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার তাঁদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি।
শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যয় নিয়ে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী দু’প্রার্থী হলেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদ্য পদত্যাগকারী প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এবং কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ। সাধারণ সদস্য পদে নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকলেও এবার মাত্র ১ জন নারী পুরুষদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ১৪ নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সেই নারী হলেন খোরশিদা বেগম।
এ ছাড়া সাধারণ ১৫টি ওয়ার্ডেও সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় মনোনয়পত্র জমা দেয়া ৭১ প্রার্থীর মধ্যে জমাদানের শেষ দিন পর্যন্ত ১ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন, মো. জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ, মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী (মুকুল), আহামদ উল্লাহ্ এবং মিজানুর রহমান। ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৫ ব্যক্তি হলেন, মুঃ কামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, মোঃ রুহুল আমিন, লুৎফুর রহমান এবং জাফর আলম। ৩ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া মোস্তফা আনোয়ার, আনোয়ার পাশা চৌধুরী, সিরাজ মিয়া, মুহাম্মদ আইয়ুবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম মুন্না এবং আজিজুল হক। ৪ নং ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী এবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ওয়ার্ডটিতে গতকাল জমাদানের শেষ দিন পর্যন্ত মনোনয়পত্র জমা দেয়া ১০ ব্যক্তি হলেন, রিয়াজ খান রাজু, জাহাংগীর আলম, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এস.এম. গিয়াস উদ্দিন, এ.টি.এম জায়েদ মোর্শেদ, মো. ইকবাল, আবুল কাশেম, মোঃ তারেক সিদ্দিকী, মেহেদী হাসান এবং আবু হেনা মোস্তফা কামাল। ৫ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমাদেয়া সাত ব্যক্তি হলেন, জহির হোছাইন, কমরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা, এ.টি.এম জিয়াউদ্দীন চৌধুরী জিয়া, ফিরোজ আহমদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল এবং মাহবুব রহমান। ৬ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া চার ব্যক্তি হলেন এম আজিজুর রহমান, মোঃ আবু তৈয়ব, আকতার আহমদ এবং নুরুল আমিন চৌং। ৭নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ছয় ব্যক্তি হলেন জাহেদুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর রহিম, মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, খলিলুর রহমান এবং মোহাম্মদ ওয়ালিদ। ৮নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ৫ ব্যক্তি হলেন, মোঃ শাহনেওয়াজ তালুকদার, মোক্তার আহাম্মদ চৌধুরী, আ.ন.ম আমিনুল এহেছান, মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং সুলতান আহমদ। ৯ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ছয় সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন মোঃ আরিফুল ইসলাম, মোঃ জুনায়েদ কবির, সোহেল জাহান চৌধুরী, মিজানুল হক, আজিজুর রহমান, মঞ্জুরুল হক চৌধুরী। ১০ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছয় সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁরা হলেন, মোঃ নুরুজ্জামান, উজ্জল কর, শামসুল আলম, রফিক উদ্দীন, মাহমুদুল করিম, এবং মোঃ রুহুল আমিন। ১১ নং ওয়ার্ডে সদস্য পদের জন্য দু’প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন, শামশুল আলম ম-ল এবং পলক বড়–য়া। ১২ নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া দু’ব্যক্তি হলেন মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ এবং শামসুল আলম। ১৩ নং ওয়ার্ডেও সম্ভাব্য তিন প্রার্থী হলেন নুরুল হক, আবদুর রহিম এবং রাহামত উল্লাহ। ১৪ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৩ ব্যক্তি হলেন হুমায়ুন কবির চৌধুরী, মোঃ খাইরুল আমিন এবং খোরশিদা বেগম। ১৫ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া দু’ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ শফিক মিয়া ও জহির হোসেন।
নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫টি ওয়ার্ডেও মধ্যে ১ নং ওয়াডে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিন জন। তাঁরা হলেন, মশরফা জান্নাত, শিরীন ফরজানা এবং প্রীতি কণা শর্মা। ২ নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ৫ নারী হলেন মোছাম্মদ উম্মে কুলসুম, আসমা উল হুসনা, সৈয়দা নিঘাত আমিন, মর্জিনা বেগম এবং জাহানারা পারভীন। ৩নং ওয়ার্ডেও ৫ জন নারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন, শাহানা বেগম, রেহেনা খানম, ফিরোজা বেগম, লুৎফুন্নাহার এবং আনোয়ারা বেগম। ৪ জন নারী ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৫ নং ওয়ার্ডে ৩ জন নারী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এদিকে, গতকাল ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ভারপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার সময়ের বাহানা দিয়ে দু’নারীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল এ অভিযোগ করলেন আসন্ন নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় ইতিপূর্বে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী খোরশিদা করিম চৌধুরী এবং ফরিদা ইয়াছমিন। সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন দাবি করে দু’নারী নেত্রীই একবাক্যে বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ করেছেন। এ কারণেই তাঁরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথাকে অবহেলা করার পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান তাঁরা।
খুরশিদা করিম চৌধুরী বলেন, “আমার মনোনয়নপত্র জমা দিতে আমি অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) এর কাছে যাই। কিন্তু সময় অতিক্রান্ত হওয়ার কথা বলে আমাদের নির্বাচন অফিসে ঢুকতে দেয়া হয়নি। অথচ আমাদের সামনেই একই সময়ে আরো তিনজন নারীকে ঢুকতে দেয়া হয়। গ্রহণ করা হয় তাদের মনোনয়নপত্র।”