উখিয়ায় ব্রীজ ধ্বসের আশংকা গ্রামবাসীর

Ukhiya-Pic-02.12.2016.jpg

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া ::
উখিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ রেজুখালের ডেইলপাড়া-দরগাহবিল সংযোগ ব্রীজটি যেকোন সময়ে ধ্বসের পড়ার আশংকা করছে গ্রামবাসী। ব্রীজটি সংস্কারের ব্যাপারে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করার পরও কোন কাজ হয়নি অভিযোগ করে গ্রামবাসী জানান, চলতি মৌসুমে এ ব্রীজটি মান সম্মত সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে সামনের বর্ষা মৌসুমে ব্রীজটি ধ্বসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে। ৪ গ্রামের পনের হাজার মানুষকে অবর্ণনীয় দূর্ভোগে পড়তে হবে।
সরেজমিন ঘুরে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এ ব্রীজ দিয়ে ডেইলপাড়া, করইবনিয়া, পূর্ব ডিগলিয়াসহ ৪ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ সহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শতাধিক ছাত্রছাত্রী নিয়মিত আসা যাওয়া করে থাকে। স্থানীয় হেডম্যান শামশুল আলম জানায়, চলতি মৌসুমে ব্রীজটি সংস্কার করা না হলে বর্ষায় এই ব্রীজটি ধ্বসে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ব্রীজ নিয়ে একটি ছবি সহ প্রতিবেদন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার জের ধরে উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন ব্রীজটি পরিমাপ করে একটি প্রাক্কলন তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রেরণ করার কথা স্বীকার করলেও বাস্তবত তার কোন প্রতিফলন ঘটেনি বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ।
রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, ব্রীজটি করুণ দশা দেখে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে ৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মুন্সী আলম মেম্বার জানান, ৪ সদস্যের একটি কমিটি উক্ত বরাদ্ধের টাকায় ব্রীজের গাইডওয়াল ও সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু খালের গভীরতা ও পাহাড়ী ঢলে পানির ¯্রােতের তীব্রতায় উক্ত গাইডওয়াল ও সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যায়।
ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে বসবাসরত এলাকার প্রবীণ সাবেক ইউপি সদস্য আলহাজ্ব ছব্বির আহমদের সাথে ব্রীজ সম্পর্কে আলাপ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ইউপি সদস্য থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে ঠিকাদার শেখ সাহাব উদ্দিন উক্ত ব্রীজটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। তবে এসময় ব্রীজের গাইড ওয়াল ও সংযোগ সড়কের বরাদ্ধ না থাকায় অসম্পূর্ণ এ ব্রীজ নিয়ে প্রতি বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনগণকে দূভোর্গের শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতি বছর সংযোগ সড়ক সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হলেও গাইডওয়াল না থাকার কারণে ব্রীজটি বর্তমানে ঝুঁকির মুখে।
উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহামুদ জানান, উক্ত ব্রীজ পুণ:নির্মাণের একটি প্রাক্কলন তৈরি করে বরাদ্ধপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন বরাদ্ধ এলে ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।