আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতন অব্যাহত দলে দলে আসা নির্যাতিত রোহিংগারা আশ্রয় নিচ্ছে শরণার্থী ক্যাম্পে

Teknaf-pic-02.12.2016.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর সে দেশের সামরিক জান্তার নির্যাতিত নিপীড়ন, হত্যা ও গুম এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ নিমর্ম এবং অমানবিক নির্যাতন সহ্ন্য করতে না পেরে আরাকান থেকে দলে দলে রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশু নাফ-নদী ফাঁড়ি দিয়ে হ্নীলা লেদা আনরেজিষ্টার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আতœীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীর কাছে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেয়া প্রায় হতদরিদ্র পরিবারের নারী পুরুষ ও শিশু। গোটা ক্যাম্পে কোন বিত্তশালী রোহিংগা পরিবারকে দেখা যায়নি। গত ২ ডিসেম্বর (জুমাবার) সকাল ১১ টায় এ প্রতিবেদক লেদা আনরেজিষ্টার রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব তথ্য পাওয়া যায়। সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এবং উগ্রপন্থি রাখাইনদের নির্যাতনের শিকার আরাকানের আমতল্যাপাড়া মেহের বিল পাড়া, কম্বনিয়া পাড়া, গৌরিবিল পাড়া, কিয়ারী পাড়া, বুরাসিকদার পাড়া, নাইসাগুরো পাড়া, হাতিপাড়া, ছানিপ্রাং পাড়া, কাউয়ার বিল পাড়া, জাম্বন্যাপাড়া, বাবাস্যা পাড়া, দুনছো পাড়া, নুরুল্লাহ পাড়া, গৌজির বিল পাড়া, মংডু পাড়ার ১৮জন গৃহকর্তার নুরুল আলম, নুর হোসেন মাওঃ রফিক, জাহেদ হোসেন, মোঃ ইসহাক, নুর কামাল, সৈয়দ হোসেন, নুর আলম, জাফর, শমশু, ইয়াসমিন, নুর বশর, নুর মোহাম্মদ, কামাল, দিল মোহাম্মদ, মোঃ আলম, লায়লা বেগম, মকবুল আহমদ, শমশু, জাহেদ আলম, তসমিন আরা, নুরুল ইসলাম, নুর হাসিম, জিয়াউর রহমান জামাল হোসেন ও জাফর আলম স্বপরিবার নাফ-নদী ফাঁড়ি দিয়ে জাদিমুড়া, জিম্মংখালী, বরইতলী ও ওমরখাল ঘঅট দিয়ে চলে আসেন। স্ব স্ব চোরাই ঘাটের দালালেরা মাথাগণা ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে চলে আসে । তারা বর্তমানে ১৮ পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা লেদা আনরেজিঃ রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে খোলা আকাশের নীচে অর্ধহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ক্যাম্পের আতœীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর বাসায় আশ্রয় নিয়েছে এবং অপরাপর রোহিঙ্গারা কারো আস্থানার আংগিনায় কোন রকম মাথাগুজার মত বসবাস করছে। ১৮ জন রোহিঙ্গা পরিবারের গৃহকর্তার মধ্যে আরাকানের আমতল্যা পাড়ার বাসিন্দা মাওঃ রফিক (৫ সন্তানের জনক) জানায়, আমরা সামরিক জান্তা এবং উগ্রপন্থি রাখাইন সম্প্রদায় আমাদের ঘরবাড়ীতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং ৩১৭ জন রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা ও গুম করেছে। যুবতী মেয়েরা ধর্ষনের শিকার হয়েছে। এসব নির্যাতন সহ্ন্য করতে না পেরে প্রানভয়ে আমরা বাংলাদেশে লেদাস্থ আন রেজিঃ রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ছাহারা বা আশ্রয় নিয়েছি। ঘরের সামানা ও গরু ছাগল বিক্রি করে নাফ-নদী ফাঁড়ি দেয়ার সময় দালালেরা স্বর্ণ কেড়ে নেয়। আমরা মিয়ানমারের নির্যাতন ছাড়া কয়েকটি নির্যাতনের শিকার। তার পরও আমরা এখানে এসে স্বস্থির নিশ্বাস ফেলেছি। পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী টেকনাফে ৬৮ জন দালাল রয়েছে। লেদা আনরেজিঃ রোহিংগা শরনার্থী ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী ডাঃ দুুদুমিয়া, আমীর হোসেন এবং সদস্য প্রধান আব্দুল মতলব জানান, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সৃষ্ট ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার নির্যাতিত রোহিংগা নারী পুরুষ ও শিশু এ ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের নামের তালিকা প্রনয়ন হচ্ছে। ফলে বিস্তারিত জানা যাবে। অপরদিকে বিত্তশালী নির্যাতিত রোহিংগাদের ঘাট নিয়ন্ত্রকারী দালাল এবং নৌকার মাঝিদের মোটা অংকের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করে স্থানীয় লোকালয়ে আশ্রয় নেয়ার পর চলে যায়, শহরে বন্দরে। যারা নিতান্ত গরীব তারা থাকে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে এবং বিত্তশালীরা আশ্রয় নেয় আতœীয়স্বজনের বাড়ী অথবা ভাড়া বাসায়। হ্নীলা হোয়াইক্যং এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড় সংলগ্ম এলাকায় বিত্তশালী রোহিঙ্গা নাগরিক পরিবার বিভিন্ন লোকালয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। টেকনাফ বিজিবি সীমান্ত এলাকা টহল জোরদার করেছে এবং প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকা মিয়ানমারের পুশব্যাগ অব্যাহত রেখেছে। ফলে রোহিঙ্গা ঢালাওভাবে প্রবেশ করতে পাচ্ছে না।