টেকনাফে ভূমি জরিপ দিয়ারা এখন বিষ ফোঁড়ায় পরিনত : ভূমি কর আদায় ও রেজিস্ট্রিতে জটিলতা

.jpg

আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ |
গত ১৯৯৬ সালের টেকনাফ উপজেলায় দক্ষিণ হ্নীলা ও টেকনাফ মৌজায় নতুন ভূমি জরিপ দিয়ারা এখন ভূমি মালিকদের জন্য বিষ ফোঁড়ায় পরিনত হয়েছে। পাশাপাশি ভূমি কর আদান-প্রদান ও জমি রেজিস্ট্রিতে সৃষ্টি হয়েছে জঠিলতা। কয়েকজন ভোক্তভোগি ভূমি মালিক জানান, সরকার ৩০ বছর অন্তর-অন্তর ভূমি জরিপ করে থাকে। এতে অনেক ত্র“টি-বিচ্যুতি দূর হয়। ভূমি মালিকদের উপকারে আসে। দেশ স্বাধীন হবার পর হতে এ পর্যন্ত যত গুলো ভূমি জরিপ হয়েছে সব গুলো ভূমি মালিকদের উপকারে এসেছে। মেজর জটিলতা হয়নি। সামান্য ত্র“টি-বিচ্যুতি হয়েছে। ভূমি জরিপকারী দল মাঠে ময়দানে গিয়ে জরিপ কাজ চালিয়েছে। যেমন বি এস জরিপ। গত ১৯৯৬ সালে টেকনাফ উপজেলার দু’টি মৌজায় দিয়ারা জরিপ নামে যে ভূমি জরিপ করা হয়েছে, এতে বড় ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও ভুলে ভরা পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা সংশোধনের আওতায় আনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চূড়ান্ত জরিপে ভলিয়ম পরিদর্শনে দেখা যায়, ভুলে ভরা ও মনগড়া জরিপ। টেকনাফ মৌজার কয়েকটি খতিয়ান পরিদর্শনে দেখা যায়, একজনের জমি অন্যজনের নামে অন্তভুক্ত হয়েছে। যেমন টেকনাফ মৌজার বি এস খতিয়ান নং ৭৭ এর ১২৩৩০, ১২৩২৯ এর ৪৫ শতাংশ জমি অন্য খতিয়ানে দিয়ারা জরিপে চলে গেছে। বি এস খতিয়ান মূলে জমির মালিক আবদুল গফুর দিয়ারা জরিপে শূন্য হাতে। অপর দিকে বি এস খতিয়ান নং ২৯৪ এর ৬৪৮৬ এর ২ একর ৬০ শতাংশ জমির ১ একর ৪৫ শতাংশ জমি দিয়ারা জরিপে চলে গেছে। জমির মালিক আবদুল কাদের এখন দিয়ারা জরিপে ১৫ শতাংশ জমির মালিক। এভাবে প্রতিটি বি এস খতিয়ানের জমি দিয়ারা জরিপে গিয়ে কারও দুধ ভাত, কারও সর্বনাশ হয়ে পড়েছে। যার কোন খতিয়ানে জমি নাই তার নামে অসংখ্য জমি রেকর্ড হয়েছে, আর যার জমি আছে সে হয়ে পড়েছে ভূমিহীন। এছাড়া ১৯৯৬ সালে দিয়ারা জরিপ আরম্ভ হয়ে ২০১৬ সালে এসে চূড়ান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত জমির খতিয়ান সহিমরি বা অবিকল কপি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভূমি মালিক গণ পড়েছে বিপাকে। এদিকে ভূমি কর দিতে গিয়ে ভূমি মালিক গণ যেমনি পড়েছে বিপাকে তেমনি আদায়কারী ভূমি কর্মকর্তারা পড়েছে বিড়ম্বনায়। নাম প্রকাশে অনিচুক কয়েক জন ভূমি খাজনা আদায়কারী কর্মকর্তা জানান, দিয়ারা জরিপ চূড়ান্ত হওয়ায় আমরা বি এস খতিয়ানের সাথে দিয়ারা জরিপের খতিয়ানের দাগ সঠিক না থাকায় খাজনা আদায় করতে পারছিনা। ফলে সরকার কর্তৃক লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অপর দিকে ভূমি মালিক গণ দিয়ারা জরিপ চূড়ান্ত হওয়ায় জমি বিক্রি করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান। কেননা সাবরেজিস্টার দিয়ারার জরিপ খতিয়ান ও বি এস খতিয়ানের দাগ অসম্পূর্ন হলে জমি রেজিস্ট্রি করেনা। এ ব্যাপারে টেকনাফ ও দক্ষিণ হ্নীলা মৌজার শত শত ভূমি মালিক দীর্ঘ দিন পর্যন্ত ভুলে ভরা দিয়ারা জরিপ সংশোধন নতুবা বাতিলের জন্য অনেক সংগ্রাম করে আসলেও কোন প্রসাশন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন ভূমি মালিক গণ দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আপদে বিপদে জমি ক্রয় বিক্রয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়নত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রসাশকের প্রতি আহবান জানিয়েছেন টেকনাফ ও হ্নীলা মৌজার ভুক্তভোগি ভূমির মালিক গণ।###