মিয়ানমারের ৯১ জেলেকে স্বদেশে ফেরত

Copy-of-4445567788.jpg

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া ::
বুধবার ৩০ নভেম্বর বেলা ১১ টার সময় ৩৪ বিজিবির অধীনস্থ ঘুমধুম বিজিবির আওতাধীন বাংলাদেশ মিয়ানমার মৈত্রী সেতুর সন্নিকটে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩ নং ঘুমধুম ইউনিয়নের অর্ন্তগত সীমান্ত পিলার ৩০/১ এর সংলগ্ন স্থানে মিয়ানমারের ইমেগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্টেশন ডিপার্টমেন্ট এর সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির মধ্যে এক পাতাকা বৈঠক অনুষ্টিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্বদেন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার। এছাড়া ও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার বিজিবির ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এম আনিসুর রহমান পি এস সি, পিবিজিএম এস পরিচালক অধিনায়ক।

মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্বদেন মিঃ কেউ কেউ (চ্য চ্য)। ডেপুটি ডাইরেক্টর ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশন্যাল রেজিষ্টশন ডিপার্টমেন্ট মংডু মিয়ানমার।

উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিজিবি, সেক্টর সদর দপ্তর, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পরিচালক অপারেশন, মেজর মোঃ আব্দুস ছালাম, মেজর মোঃ আবুল খায়ের জি, সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মোঃ আব্দুল মালেক মিয়া ও উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের প্রতিনিধিবৃন্ধু।

অপর দিকে মিয়ানমারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, মিয়ানমার বিজিপি এবং ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্টেশন ডিপার্টমেন্ট এর প্রতিনিধিবৃন্ধ।

সকাল ১১ টায় বৈঠক শুরু হয়ে বেলা সাড়ে ১ টা পর্যন্ত উক্ত বৈঠক চলে। উক্ত বৈঠকে উভয় প্রতিনিধি দলের প্রধানগণ প্রথমে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর পর গত ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশ জল সীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কতৃক আটককৃত ৯১ জন (মৃত শুক্রর আলী ব্যতীত) মিয়ানমারের মৎস্য জীবিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক যাচাইকৃত ৯১ জন মিয়ানমার মৎস্য জীবিদের কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিকট হইতে গ্রহন করে ৩৪ বিজিবি কর্তৃক ঘুমধুম সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশ মিয়ানমার মৈত্রী সেতু দিয়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের নিমিত্তে মিয়ানমার ইমেগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্টেশন ডিপার্টমেন্ট এর নিকট হস্তার করা হয়।

মিয়ানমার নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষে আয়োজিত উক্ত পতাকা বৈঠক অত্যান্ত ফলপ্রসূ ছিল এবং তা সৌহার্দাপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়।

মিয়ানমারে হস্তান্তরকৃত রামবেরী জেলার কেলাবন গ্রামের জয়নাল আবেদিন, হামিদ হোসাইন, মোঃ করিম, আহম্মদ খান, আবু তাহের, মোঃ শরিফ ও আকিয়াব জেলার আব্দুল মালেক, আব্দুস সত্তার, মোঃ মুফিজ, মঞ্জুর আলী, আব্দুল মোনাফ, জাফর আলম, ছৈয়দ হোসাইন, কোরবান আলী, আব্দুস সত্তার, শুক্রুর মিয়া, কোরবান আলী, মোঃ হারুন, মোঃ হোসাইন, মোঃ আয়ুব, ওজির আহম্ম, মোঃ শফি জানান, তারা কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জেল খানায় বন্ধি জীবন যাপন করলেও তাদের কোন সমস্য হয়নি। জেলখানায় তারা কোন ধরনের অসুবিধার সম্মূখিনে পড়েনি। আজ তারা তাদের স্বদেশে ফিরতে পারছে বলে তারা খুবই আনন্দিত।