শাহপরীরদ্বীপে জনপ্রতিনিধির কারসাজিতে ডিলার, বোট মালিক, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও আত্মীয়-স্বজনের নামে দশ টাকার চালের কার্ড

Dornity.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ |
টেকনাফেও দশ টাকার চাল নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ডিলারদের কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্য বান্ধব এ কর্মসূচীতে খোদ ডিলার নিজের নামে কার্ড তৈরীসহ সচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন সাবরাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড শাহপরীরদ্বীপের আব্দু রশিদ নামে এক দরিদ্র ব্যক্তি।
গত রোববার (২৮ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ আব্দু রশিদ জানিয়েছেন, সাবরাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার ফজলুল হক শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়া, মিস্ত্রি পাড়া ও বাজার পাড়া এলাকায় দশ টাকার চালের কার্ড তৈরীতে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি ৯নং ওয়ার্ডে প্রকৃত অতিদরিদ্রদের বাদ দিয়ে তার স্বচ্ছল আত্মীয় স্বজন, উচ্চ বেতনের চাকুরীজীবি, ফিশিং বোটের মালিক, ব্যবসায়ী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের কার্ড প্রদান করে প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করেছেন। এমনকি উক্ত ওয়ার্ডের ডিলার মনির উল্লাহ নিজেই দশটাকা চালের কার্ড পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এমনকি স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে একই সাথে কার্ড প্রদান করেছেন।
অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, ৩৭০ নং ক্রমিকের ৩৮৭০ নং কার্ডধারী মনির উল্লাহ নিজেই উক্ত ওয়ার্ডের ডিলার। এছাড়া ৩৮০৮ নং কার্ডধারী এনামউল্লাহ, ৩৮৩০ নং কার্ডধারী ফয়েজ উল্লাহ, ৩৬৪৩ নং কার্ডধারী মোঃ শরীফ, ৩৮০৬ নং কার্ডধারী মোঃ জোনাইডসহ উল্লেখিতরা সবাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্বচ্ছল।
শুধু তাই নই ৩৫৩২ নং কার্ডধারী মিস্ত্রি পাড়ার শরীফ হোসেন একজন ফিশিং বোটের মালিক ও ব্যবসায়ী।
এভাবে ৩৫৬৮ নং কার্ডধারী মোঃ তৈয়ব, ৩৮৭০ নং কার্ডধারী আব্দুল হক, ৩৭০৮নং কার্ডধারী মোঃ জাকারিয়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধির আপন ভাই ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
৩৭৫৭ নং কার্ড মোঃ আব্দুল্লাহ, ৩৭৯৪ ইসমত আরা, ৩৮২৩ নং রশিদা, ভাই বোন ও একই পরিবারের সন্তান।
৩৮২১ নং কার্ডের শফি উল্লাহ ও ৩৭৬৯ নং কার্ডের পারভিন আক্তার, ৩৭৯৬ কার্ডধারী দরবেশ আলী ও ৩৮১৫ লাইলা বেগম স্বামী-স্ত্রী।
এভাবে জনপ্রতিনিধির এই স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতি দেখে দশ টাকার চাল বঞ্চিত প্রকৃত হতদরিদ্র লোকজন হতাশ হয়েছেন। একিসাথে শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ এই শ্লোগানটি ব্যর্থ হতে চলেছে।
অভিযোগের ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ফজল হকের কাছে জানতে চাইলে জানান, ৯নং ওয়ার্ডে ৫০০ অতিদরিদ্র ব্যক্তির কার্ড সঠিক ভাবে করার চেষ্টা করেছি তারপরও অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে অভিযোগ প্রদানের পর ইউএনও তাৎক্ষনিক সাবরাং ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও গুদাম কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।