রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার আহ্বান খালেদা জিয়ার

khaleda_bnp_bd_30725_1479140919.jpg

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সে দেশের সরকারি বাহিনী পরিচালিত সুপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত ‘জেনোসাইড’-এর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতা সব সময়েই নিকট প্রতিবেশী হিসাবে বাংলাদেশকে স্পর্শ করেছে। এ দেশে আগে থেকেই অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নেয়ায় আমাদের অনেক সমস্যা ভোগ করতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও জীবন রক্ষায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিও অভিন্ন আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, প্রতিটি মানবতাবাদী রাষ্ট্রের সরকার, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব, জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার আহ্বান, কেবল কথামালা নয়, রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বলিষ্ঠ এমন পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসুন। মিয়ানমার সরকার গণহত্যার কালো হাত গুটিয়ে নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অপরাধীদের শাস্তিবিধানে বাধ্য করুন।’

অনতিবিলম্বে এই জেনোসাইড বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আর যেন একটি মানুষও হত্যাকাণ্ড, উচ্ছেদ ও নির্যাতনের শিকার না হয়।

খালেদা জিয়া বলেন, গভীর পরিতাপ ও দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কোনো সামরিক জান্তা নয়, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান শুচির নেতৃত্বে পরিচালিত মিয়ানমারের প্রশাসনই এ অমানবিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের হোতা। দীর্ঘকাল নির্যাতিত হয়েও তিনি কী করে এমন পৈশাচিক তাণ্ডবকে অনুমোদন করছেন।

বিএনপি নেত্রী আরও বলেন, কেবল শরণার্থীদের আশ্রয় ও সাহায্য দেয়ার মধ্যেই কোনো সমাধান নিহিত নেই। রোহিঙ্গারা যাতে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে বসবাস করতে পারে সেই নিশ্চয়তা বিধান কল্পে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।