চকরিয়া উপজেলার ৭নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হচ্ছেন পৌর আ.লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু

Zahedul-Islam-Litu.jpg

কক্সবাজার জেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সদস্য পদে

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া |
কক্সবাজার জেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সদস্য পদে চকরিয়া উপজেলার ৭নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হচ্ছেন চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক প্যানেল মেয়র জাহেদুল ইসলাম লিটু। পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও পরে প্যানেল মেয়র পদে পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে জনগনের কল্যাণে কাজ করছেন তরুন নেতা লিটু। পাশাপাশি ছাত্র জীবন থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি তৃনমুলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে কাজ করে আসছেন। এ কারনে রাজপথের অগ্রভাগে থাকা জাহেদুল ইসলাম লিটু আজ এতদাঞ্চলের সাধারণ জনগনের পাশাপাশি দলের সকলস্থরের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রিয়ভাজন তিনি।
নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ায় অনুভুতি প্রকাশ করে চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি ত্যাগী নেতা জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, বিগত পৌরসভা নির্বাচনে আমি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড এখানে মনোনয়ন দেন অগ্রজ আলমগীর চৌধুরীকে। দলীয় সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্বান্তকে স্বাগত জানিয়ে আমি সেইসময় নিজের অবস্থান থেকে বিরত থাকি। পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীর অভিষ্ট বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে নিজের মেধা শ্রম, সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে কাজ করি। সফলতাও আসে আওয়ামীলীগের।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারাদেশের সাথে কক্সবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হচ্ছে। তাই চকরিয়া উপজেলার ৭নম্বর ওয়ার্ডের জনগন ও সম্মানিত ভোটারদের প্রত্যাশা পুরণে আমি সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছি। আশা করি অনুষ্টিতব্য এ নির্বাচনে সম্মানিত ভোটাররা আমার বিগত দিনের জনকল্যাণ মুলক কাজ ও আওয়ামীলীগের জন্য দেয়া ত্যাগের যথাযথ মুল্যায়ন করবে।
চকরিয়া উপজেলার ৭নম্বর ওয়ার্ডের (চকরিয়া পৌরসভা, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর ও চিরিঙ্গা ইউনিয়ন) সম্মানিত সকল ভোটারদের কাছে আমার আবেদন, ইনশাল্লাহ অনুষ্টিতব্য নির্বাচনে আমি আপনাদের মুল্যবান ভোটে সদস্য পদে বিজয়ী হলে প্রত্যেক ইউনিয়নে সমানহারে উন্নয়ন বরাদ্ধ নিশ্চিত করা হবে। এলাকার সকলস্থরের জনগনের সার্বিক অধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা করা হবে। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্টান, মসজিদ মাদরাসা, মন্দির গীর্জার উন্নয়ন তরান্তিত করা হবে। জেলা পরিষদের প্রাপ্ত সকল ধরণের বরাদ্দ জনকল্যানে স্বচ্ছতার মাধ্যমে বন্টন করা হবে। আসুন সকলে মিলে চকরিয়া উপজেলার ৭নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক ও উন্নতমানের জনপদে গড়ে তুলি। এই জন্য আমি জেলা পরিষদের ৭নম্বর ওয়ার্ডের সকল কাউন্সিলর সহ দলীয় নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান রায় প্রত্যাশা করছি।
জানা গেছে, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে জাহেদুল ইসলাম লিটু’র পরিবার সদস্যরা আওয়ামীলীগের রাজনীতি অঙ্গনে একটি নিবেদিত পরিবার। এই পরিবারের সদস্যরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে তার সুযোগ্য উত্তরসুরী দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের ঐক্যের প্রতি সবসময় অবিচল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী।
চকরিয়া উপজেলার ৭নম্বর ওয়ার্ডের সম্মাণিত ভোটার ও জনগনের উদ্দেশ্যে জাহেদুল লিটু তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছেন। চকরিয়া পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের পালাকাটা খন্দকারপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোছাইনের ছেলে লিটুর শিক্ষাগত যোগ্যতা ঢাকা কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এমএ। ২০১৩ সালে অনুষ্টিত সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে তিনি চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই থেকে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত তিনি বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, একই সময়ে পৌরসভার কাউন্সিলরদের ভোটে প্যানেল মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি চকরিয়া পৌরসভা যুবলীগের আহবায়ক ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেন চকরিয়া উপজেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক, চেয়ারম্যান চকরিয়া উপজেলা পল্লী স্মৃতি সংসদ (সামাজিক সংগঠন), নির্বাহী পরিচালক এনজিও বিভাস বাংলাদেশ। তিনি সদস্য পদে আছেন চকরিয়া সিটি কলেজ পরিচালনা কমিটি, শেখ রাসেল স্কুল পরিচালনা কমিটি, সভাপতি পদে আছেন পালাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাতা সদস্য চকরিয়া ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের। তিনি সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতে উল্লেখ্য করেছেন, ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে পর্দাপন করেন। কালের পরিক্রয়ায় তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের গুরুত্বপুন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি একাধিক সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি সম্পৃক্ত। বিএনপি জামায়াত জোটের আন্দোলনের সময় রাজপথে তিনি আওয়ামীলীগের সকল ধরণের কর্মসুচীতে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে।
জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা ও বিশ^াস রেখে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এবং দেশরত্ম শেখ হাসিনা সরকারের সফলতা জনগনের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে রাজপথে বিএনপি জামাতের অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমি ৯টি মিথ্যা মামলা আসামি হয়েছি। টানা দুইবছর কারাভোগ করেছি। দুই মাসের ডিটেনশন ও ৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে অমানুষিক নির্যাতনে শিকার হয়েছি। আওয়ামীলীগের জন্য এতসব মিথ্যা ও নির্যাতন সহ্য করে আমি এখনো রাজপথে আছি। কিন্ত আজকে যাঁরা দলের সহানুভুতি আদায় করতে চান তাদের কি সেই ধরণের কোন অর্জন আছে জনগন এবং সম্মাণিত ভোটারদের (জনপ্রতিনিধি) কাছে আমার এটাই প্রশ্ন। আশা করি আপনারা দেখে শুনে সমুচিত সিদ্বান্ত নেবেন।