সংসার ভাঙল ক্লোজআপ তারকা সালমার

salma.jpg

বিনোদন ডেস্ক |
ভেঙে গেল ক্লোজআপ ওয়ান তারকা লালনকন্যা মৌসুমী আক্তার সালমার সংসার। ২০ নভেম্বর সংসদ সদস্য শিবলী সাদেক ও সালমার মধ্যে ডিভোর্স হয়। রাজধানীর ধানমণ্ডির এক রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমেই দু’জনার মধ্যে তালাক সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সালমা ও শিবলী সাদিকের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এ কারণে আলাদা থাকছিলেন সালমা। এ বিষয়ে সালমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিভোর্সের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সালমা বলেন, ‘মানসিকভাবে আমি ঠিক নেই। অনেক কষ্ট করেও সংসারটা বাঁচাতে পারলাম না। অনেক সেক্রিফাইস করেছি। গান-বাজনা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তবুও আমি পারিনি। তিনি রাজনীতি করেন। আমি গান করি। দুই ভুবনের বাসিন্দা মনে হয় দু’জনকে। আসলে অল্প বয়সে আমার এ বিয়ে করাটাই ভুল ছিল।’ সালমা ও শিবলীর সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর মেয়ে কার সঙ্গে থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার মেয়ে সপ্তাহে তিনদিন আমার কাছে থাকবে। আপাতত পারিবারিকভাবে এটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

২০০৬ সালে স্যাটেলাইট চ্যানেল এনটিভি আয়োজিত ‘ক্লোজআপ ওয়ান : তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে পেশাগত সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন সালমা। ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনাজপুরের পিকনিক স্পট ‘স্বপ্নপুরী’র মালিক শিবলী সাদিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবেই তার বিয়ে হয়। ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি তাদের কোলজুড়ে আসে কন্যাসন্তান। তবে বিয়ের পর গানের জগতে সালমার বিচরণ কমে যায়। অন্যদিকে শিবলী সাদিক বাবার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে আসেন। বাবার মৃত্যুর পর দিনাজপুর-৬ আসন থেকে প্রার্থী হন এবং সর্বশেষ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। শিবলী নিজেও সঙ্গীতের চর্চা করতেন। কিন্তু রাজনীতিতে আসার পর সেই চর্চায় ভাটা পড়ে।

সূত্র জানায়, ২০ নভেম্বর ডিভোর্স পেপারে স্বাক্ষরের পরপরই শিবলী সালমাকে দেনমোহরের ২০ লাখ ১ টাকা বুঝিয়ে দেন। পাশাপাশি নিয়মানুযায়ী স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণের খরচও দিয়ে দেন। বর্তমানে সালমা তার মেয়েকে নিয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরে আছেন। সালমার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামীর সঙ্গে তার বনাবনি হচ্ছিল না। পেশাগত কাজ নিয়ে দু’জনার মধ্যে মনোমালিন্য ছিল বেশ। বিয়ের শুরুতে এমনটি না থাকলেও দুই বছরের মাথায় সেটা প্রকট আকার ধারণ করে। অবশ্য সালমা সেসব মেনে সঙ্গীত থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়েও নিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও শেষ রক্ষা হল না।