রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা বাংলাদেশের দিকে ছুটছে

Rohingha_new.jpg

ফাইল ছবি

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার ॥
চেহারা ও গঠনপ্রকৃতি বাঙালিদের মতো হওয়ায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাঙালি আখ্যায়িত করে মিয়ানমারের আরাকান থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে মিয়ানমার। নির্যাতন, অত্যাচার সহ বিশ্বাসগত কারণে একই ভ্রাতৃত্বের বল্ডধনে আবদ্ধ রোহিঙ্গা মুসলমানরা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ অব্যাহত রেখেছেন। ফলে নতুন করে কক্সবাজারে সীমান্ত অঞ্চলসহ পুরো জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল রোহিঙ্গাদের ভারে নুয়ে পড়ছে।
গত ১২ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে টেকনাফ নয়াপাড়া ও উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পেই আশ্রয় নিয়েছে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা। এসব ক্যাম্পের প্রতিটি ঘরে ঘরে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী।
সরেজমিনে জানা গেছে, কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ। বাংলাদেশ-মিয়ানমানর সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে নাফনদী পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই শত শত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে দিনের আলোতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কড়া টহল দিলেও রাতের অন্ধকারে দালালদের মাধ্যমে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।
রোববার ভোরে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীর বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় রোহিঙ্গা বোঝাই আরো ৬টি নৌকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রতি নৌকায় অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গা ছিল। বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও উখিয়ায় ৫ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাকে পুশব্যাক (ফেরত) করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সদস্যরা।
রবিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুইটি শিশু রয়েছে। এ নিয়ে গত ২৭ দিনে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি অনুপ্রবেশের সময় ৪১৬ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয় বলে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক ইমরান উল্লাহ সরকার সত্যতা নিশ্চিত করেন।