টেকনাফে সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক : বিপদাপন্ন কিছু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অস্বীকারের অবকাশ নেই

da0e298a2c461034b5b3faa75f19b1b3-5837f0356b6ac.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক |
কঠোর নজরদারি থাকার পরও কিছু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছে স্বীকার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেছেন, ৬৩ কিলোমিটার জল সীমান্তসহ ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তের সবগুলো এলাকা সিলগালা ভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। টহল জোরদার এলাকা বাদে যেখান থেকে সুযোগ পায় বিপদাপন্œ রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করেছে এটি অস্বীকার করার অবকাশ নেই। কারণ, আপনারা জানেন সীমান্তের দু’পারেই কিছু দালাল রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে। যেসব এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটছে সেসব এলাকা চিহ্নিত করে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হলে লোকাল কমিউিনিটি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে কি পরিমাণ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছে তার পরিসংখ্যান বিজিবির কাছে নেই বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শুক্রবার বেলা ১২টায় টেকনাফ সীমান্তের স্থলবন্দরের মালঞ্চ কটেজ প্রাঙ্গণে বিজিবি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র ডিজি এসব কথা বলেন।
এসময় মিয়ানমারের এক গণমাধ্যম বাংলাদেশ থেকে পার হওয়া সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় ৯ অক্টোবর বিজিপি চৌকিতে হামলার কথা উল্লেখ করেছে বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জবাবে ডিজি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসীদের বিষয়ে জিরোটলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সুতরাং এখানে দেশী-বিদেশী কোন সন্ত্রাসীকে অপতৎপরতা চালানোর কোন সুযোগ নেই। আমরা কারো শত্রু নয়, সীমান্তের সকল রাষ্ট্রের সাথে আমাদের ভ্রাতৃত্যপ্রতীম সম্পর্ক রয়েছে। হয়তো তাদের বিশ্বাসে ঘাটতি রয়েছে, তাই এমনটি (হামলায় বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসী যাওয়া) চিন্তা করছে। আমরা ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিবিদ্ধ দু’অপরাধীকে ধরে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে হস্তান্তর করেছি। একারণে সংবাদে উল্লেখিত তথ্যের বিষয়ে বিজিবির তরফ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্গনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিজি বলেন, এটি বিশ্বায়নের যোগ। কোন কিছু গোপন করার সুযোগ নেই। মিয়ানমারে কি হচ্ছে এটি বিশ্ববাসী দেখছে। এরপরও বিজিবি যেসব রোহিঙ্গা আটকের পর ফেরত পাঠায় তাদের মানবিক সব ধরণের সহযোগিতা দিয়ে থাকে।
অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিজিবি ডিজি আবুল হোসেন বলেন, এসম্পর্কে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ চিন্তা করছে। বিজিবির কাজ হচ্ছে বর্ডার পাহারা দেয়া। অনুপ্রবেশ রোধে সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছে বিজিবি।
সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে কাটাতারের বেড়া দেয়ার বিষয়ে ডিজি বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট করা হয়েছে। তবুও অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব হয়না। এরপরও বর্তমান সরকার সীমান্তে কাটা তারের বেড়া, সড়ক ও টাওয়ার স্থাপনের চিন্তা করছে। তবে, এটি সহসা সম্ভব নয়।
ডিজি আরো বলেন, আমরা সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক দিয়ে সীমান্ত সমস্যা নিরসনের চেষ্টা চালায়। গত দু’দিন ধরে আমি স্থল ও জলসীমান্ত পরিদর্শন করেছি। এসময় এবং সম্প্রতি কক্সবাজারে রিজিওন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকে মিয়ানমার বর্ডার পুলিশ চোরাচালানসহ সকল বিষয়ে একসাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি এডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল করিম, মেজর জেনারেল সেলিম মাহমুদ, চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফরিদ হাসান, কক্সবাজার সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্ণেল এম এম আনিসুর রহমান, টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ, উপঅধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্কিী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিউল আলমসহ পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন গত দু’দিন আগে কক্সবাজার আসেন । বৃহস্পতিবার স্থল সীমান্ত ও শুক্রবার স্পীড বোটে শাহপরীরদ্বীপসহ নানা সীমান্ত পরিদর্শন করেন বিজিবি মহাপরিচালক।