রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

teknaf-23.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |

শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একমাত্র পথ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিদেশী কূটনীতিকরা। তারা বলেন, সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রস্তাবকে তারা সমর্থন করেন। তারা মনে করেন, মিয়ানমারও এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমস্যাটির শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্যে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বলেন কূটনীতিকরা অভিমত ব্যক্ত করে তারা বলেন, এমন সহায়তা চাওয়া হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি বলেছেন, সেনা অভিযানের কারণে রাখাইন রাজ্যে পরিস্থিতি অবনতি হতে থাকায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশী কূটনীতিকদের ব্রিফিংকালে বিদ্যমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সংকট নিরসনে সমন্বিত প্রচেষ্টার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কামনা করেন।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের বলেন যে, ‘আলাপ-আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আমি কূটনীতিকদের বলেছি। তারা আমাদের প্রস্তাব সমর্থন করেছেন। কূটনীতিকরা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।

এর আগে মন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মিয়ানমারে চলমান বর্বর নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা কিছু রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তার বাইরেও দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় খোলা সীমান্ত দিয়ে অনেক রোহিঙ্গায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে কূটনীতিকদের অবহিত করেন। বিশেষ করে নবগঠিত এনএলডি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত হতে চাইছে। গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের বর্ডার গার্ডদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পরই বাংলাদেশ সরকার স্বেচ্ছায় (সুয়েমটো) মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনীতিকদের জানান। দায়িত্বশীল প্রতিবেশী হিসাবে বাংলাদেশ সরকার শুধু এই হামলার নিন্দাই জানায়নি; বরং অপরাধীদের ধরতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ঢল সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড এই ঢল বন্ধ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলমান সংখ্যালঘুদের যাতে সীমান্তে অবস্থান করতে না হয় সেই লক্ষ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে ইতিমধ্যে মিয়ানমার সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে। বুধবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছিল এবং তার কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

ব্রিফিংকালে বিদেশী কূটনীতিকরা স্বীকার করেছেন যে, আক্রান্তদের জন্যে অনেক বেশি সহায়তার প্রয়োজন এবং চাওয়া হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সহায়তা দিতে প্রস্তুত। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্বিচার পদক্ষেপে রাখাইন রাজ্যে অব্যাহতভাবে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী চলমান পরিস্থিতিতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেছেন। মন্ত্রী আশা করেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে এবং অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাসকারী জনগণ কোনও প্রকার ভয়ভীতি, সহিংসতা ও প্রতিহিংসামূলক হামলার শিকার না হয়েই তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারবেন।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা সংকট নিরসনে, রাখাইন রাজ্যে সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তার আগ্রহ ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তার যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। মন্ত্রী এক্ষেত্রে কূটনীতিকদের নিজ নিজ দেশের সরকারকে বিষয়টি অবহিত করার জন্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে করে সমন্বিত উপায়ে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
ব্রিফিংকালে কূটনীতিকদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ভারত, চীনসহ ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার কিংবা দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, ইউএনএইচসিআর, আইওএমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।