বিজিবি-বিজিপি বৈঠকে তু সান লিন গোলাবারুদ উদ্ধার ও অপরাধী আটক হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে

bbbb.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়ে মিয়ানমার মংডু এক নাম্বার বর্ডার পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তু সান লিন বলেছেন, মিয়ানমারের পুলিশ চৌকিতে আক্রমণে নিহত ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার জেরে অপরাধী ধরতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে আইনপ্রয়োগকারি সংস্থা। একারণে রাখাইন প্রদেশে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এতে ভীত হয়ে হয়ত কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি গোলাবারুদ উদ্ধার ও অপরাধী আটক শেষ হলে রাখাইন প্রদেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে।

বুধবার বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) আঞ্চলিক কমান্ডার পর্যায়ের সৌজন্য বৈঠকে এমনটি কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের (চট্টগ্রাম) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান।

বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট সংলগ্ন বিজিবির রেস্ট হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের মংডু এক নাম্বার বর্ডার পুলিশের কমান্ডার হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তু সান লিন। এরপরই নিয়ম মতো তাকে পরিচিত হতে বাংলাদেশ ভ্রমনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তখনই ২৩ অক্টোবর দিনটি ধার্য্য করেন সান লিন। এরই মধ্যে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরপরও তিনি পূর্বঘোষিত সময়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছেন। স্পর্শকাতর সীমান্ত পরিস্থিতির সময়ে বৈঠক হওয়ায় গণমাধ্যমসহ সবার মনে ধারণা উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্যই হয়ত বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছে। আসলে এটি সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাত।

তিনি আরও বলেন, নিয়মমত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান, তথ্য আদান প্রদান, নিয়মিত সীমান্তে অধিনায়ক পর্যায়ে সৌজন্য সাক্ষাত, যৌথ টহল, বর্ডার লিয়াজো অফিস, বন্ধুত্বমূলক খেলাধূলার আয়োজন এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ পরস্পরকে সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ব্যাপারে সম্মত হন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান আরও বলেন, মতমিনিময়ের এক পর্যায়ে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংগঠিত সহিংস ঘটনা ও এ কারণে ভীতসন্ত্রস্ত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিষয়ে দৃষ্টিপাত করা হয়। এর জবাবে, তু সান লিন বলেন, ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের পুলিশ চৌকিতে বিদ্রোহীদের আক্রমণে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার জেরে অপরাধী ধরতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে আইনপ্রয়োগকারি সংস্থা। একারণে রাখাইন প্রদেশে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এতে ভীত হয়ে হয়ত কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে। তাদের কেউ জোর করে সীমান্ত পার হতে বাধ্য করছে না। সরকারি গোলাবারুদ উদ্ধার ও অপরাধী আটক শেষ হলে রাখাইন প্রদেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে মিয়ানমার পক্ষে ৩১ সদস্যের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তু সান লিন। আর বাংলাদেশের পক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসানের নেতৃত্বে অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম মাহমুদ চৌধুরী, কর্নেল এম এম আনিসুর রহমান, কর্নেল মো. হাবিবুর রহমান, লে. কর্নেল মো. তৌহিদুল ইসলাম, লে. কর্নেল মো. আনোয়ারুল আযীম, লে. কর্নেল গোলাম মনজুর সিদ্দিকী, লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার, লে. কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদ, লে. কর্নেল এ আর এম নাসিরউদ্দীন একরাম, মেজর মো. আবদুস সালাম, মেজর মাহবুব সাবের, মেজর মেহেদী হাসান রবিন প্রমূখ।