ঠেকানো যাচ্ছে না রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

8_79409.jpg

কক্সবাজার : টেকনাফ : উখিয়া থেকে :

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশি টহল জোরদার করা হলেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের দালালরা সম্মিলিতভাবে রাতের আঁধারে পাহাড়ি ও জঙ্গল এলাকা দিয়ে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা টেকনাফের নয়াপাড়া ও উখিয়ার কুতুপালং আনরেজিস্টার্ড শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তের বিভিন্ন জঙ্গল ও পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছে আরও সহস্রাধিক রোহিঙ্গা। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ খবর জানা গেছে। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নারী ও শিশুদের নিয়ে দুর্বিষহ দিনযাপন করছে। এসব রোহিঙ্গা বাড়িঘর ও সহায়সম্পদ হারিয়ে দিনের পর দিন কষ্ট করে খেয়ে না-খেয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছলেও অমানবিক জীবনযাপন করছে তারা। এদের মধ্যে যারা বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের হাতে আটক হচ্ছে তাদের পুশব্যাক করা হচ্ছে।

বুধবার ভোর থেকে সারা দিনে অনুপ্রবেশের দায়ে ৪ দালালসহ ১৯৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করার পর তাদের খাবার ও মানবিক সহায়তা দিয়ে রাতেই পুশ ব্যাক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রায় দেড়শ’ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করেছে।

এদিকে বুধবার কক্সবাজারে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ও বিজিপির (মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ) মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে মিয়ানমার পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল

তু সান লিন দাবি করেছেন, রাখাইন প্রদেশে বিদ্রোহীরা পুলিশ চৌকিতে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা ও গোলাবারুদ লুট করার পর ওইসব এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে। ফলে ভীত হয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে। অভিযান শেষ হয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন। বিজিবি ও বিজিপির আঞ্চলিক কমান্ডার পর্যায়ের সৌজন্য বৈঠকে এমন কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টসংলগ্ন বিজিবির রেস্ট হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, মিয়ানমারের মংডু এক নম্বর বর্ডার পুলিশের কমান্ডার হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তু সান লিন। এরপরই নিয়ম অনুযায়ী তাকে পরিচিত হতে বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তখনই ২৩ অক্টোবর দিনটি ধার্য করেন মি লিন। এরই মধ্যে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরপরও তিনি পূর্বঘোষিত সময়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছেন। স্পর্শকাতর সীমান্ত পরিস্থিতির সময়ে বৈঠক হওয়ায় গণমাধ্যমসহ সবার মনে ধারণা উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্যই হয়তো বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছে। আসলে এটি সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান আরও বলেন, মতমিনিময়ের একপর্যায়ে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত সহিংস ঘটনা ও এ কারণে ভীতসন্ত্রস্ত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিষয়ে দৃষ্টিপাত করা হয়। এর জবাবে, মি লিন বলেছেন, ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের পুলিশ চৌকিতে বিদ্রোহীদের আক্রমণে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার জেরে অপরাধী ধরতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এ কারণে রাখাইন প্রদেশে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এতে ভীত হয়ে হয়তো কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে। তাদের কেউ জোর করে সীমান্ত পার হতে বাধ্য করছে না। সরকারি গোলাবারুদ উদ্ধার ও অপরাধী আটক শেষ হলে রাখাইন প্রদেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি-কোস্টগার্ড-পুলিশের টহল জোরদার : টেকনাফের বিজিবির ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির সদস্যরা অত্যন্ত সর্তক রয়েছেন। তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য। তারপরও কতিপয় দালালের সহযোগিতায় কিছু কিছু রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এদিকে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কায়সার পারভেজ চৌধুরী জানান, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে গেলে সেটা দেশের জন্য বহুমাত্রিক সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। মঙ্গলবার বিজিবির উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নতুন করে অতিরিক্ত ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া নাফনদীতে বিজিবি কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৪টি পেট্রোলিং স্পিড বোড সার্বক্ষণিক টহলে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে অতিরিক্ত আরও ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিল।

সর্বস্ব হারিয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছি : সোমবার তমুব্রুর ঘুমধুম সীমান্তপথে আসা মিয়ানমারের মংডুর জাম্বুনিয়া এলাকার ৬০ বছরের বৃদ্ধ মো. জুবাইর জানান, দশ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রাতের আঁধারে উখিয়ার কুতুপালং আনরেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ঢাল এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছি। আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা নারী, শিশুসহ ১১ জন। তিনদিন ধরে শুকনো খাবার খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছি। কি নিয়ে চলব, সন্তান-সন্ততি নিয়ে কিভাবে দিন কাটাব এ চিন্তায় আছি। মিয়ানমারে নিজেদের প্রায় দেড় একর বসতভিটাসহ ধানি জমি ছিল। হালের বলদ ছাড়াও গৃহপালিত হাঁস-মুরগি, ক্ষেতখামার ইত্যাদি ছিল। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে কোনোরকমে পালিয়ে এসেছি পরিবার নিয়ে।

পূর্বে পালিয়ে আসা বস্তির বাসিন্দা আবু তৈয়ব নামের এক রোহিঙ্গা জানান, সোমবার ভোররাত থেকে যেসব রোহিঙ্গা সপরিবারে এসেছে, তারা বস্তির বিভিন্ন বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়েছে। মোহাম্মদ হাসেম (৩০) নামের আরেক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা জানান, তারা মংডু কেয়ারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মিয়ানমার সেনা সদস্যরা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ায় ৪০ দিন যাবৎ বিভিন্ন বনজঙ্গলে অবস্থান নেয়ার পর প্রায় ৬ মাইল পাহাড়িপথ অতিক্রম করে উনচিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছেন। সীমান্ত পারের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তারা নৌকা ভাড়া করে নাফনদী পার হয়ে সেখান থেকে গাড়িতে করে কুতুপালং পৌঁছেছে। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১০ জন। অনুপ্রবেশের সময় তারা একসঙ্গে ১৫-১৭ পরিবারের শতাধিক রোহিঙ্গা উনচিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে এপারে এসেছে। বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ঢালে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্বিষহ দিনপাত করছেন। বস্তির বেশকিছু রোহিঙ্গা তাদের শুকনো খাবার খেতে দিয়েছেন। ভাতের দেখা পাননি এক সপ্তাহ ধরে।

রোহিঙ্গারা ঢুকছে যেসব সীমান্ত দিয়ে : উখিয়ার বালুখালী, রহমতের বিল, পালংখালী, আনজিমানপাড়া ও তুমব্রু সীমান্ত পয়েন্ট, টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং উলুবনিয়া, লম্বাবিল, কাঞ্জরপাড়া, খারাংখালী, ঝিমংখালী, উনচিপ্রাং, হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া, নয়াপাড়া, নাথমুড়া পাড়া, গুদামপাড়া, ফুলের ডেইল, হোয়াব্রাং, নাইক্ষংখালী, আনোয়ার প্রজেক্ট দিয়ে রাতের বেলা ও ভোররাতে অনুপ্রবেশের এ ঘটনা ঘটছে। অনুপ্রবেশের পর রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, লেদা ও কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প, নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন মানুষের বাড়িঘরে আশ্রয় নিচ্ছে।

৪ দালালসহ ১৯৬ রোহিঙ্গা আটক : বিজিবি সদস্যরা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি পয়েন্টে অনুপ্রবেশের সময় ১৯৬ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। অপরদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ দালালসহ ১০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। এছাড়া লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার সকালে টেকনাফের জাদিমুড়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় ৩টি নৌকায় ৯৪ জন ও আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকা থেকে আরও ২২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকায় রেখে তাদের খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে বিজিবি। বুধবার রাতের যে কোনো সময় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি। আটককৃতরা মিয়ানমারের বড় গৌজিবিল, ছোট গৌজিবিল ও রাইম্যাবিল এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৫৭ শিশু, ৪৬ নারী ও ১৩ জন পুরুষ রয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ জানান, পুলিশ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

এছাড়া কোস্টগার্ড স্টাফ অফিসার লে. ডিকসন চৌধুরী জানান, নাফ চ্যানেলে কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রয়েছে।

লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা শুরু হয়েছে। লেদা বস্তির চেয়ারম্যান দুদু মিয়া জানান, প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশে লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের গণনা করা হচ্ছে। বুধবার ডি ব্লকে গণনা করে ১৪৫ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়েছে। লেদা রোহিঙ্গা বস্তিতে ৬টি ব্লক রয়েছে। এখানে হাজারখানেক রোহিঙ্গা থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বুধবার ভোর ৪টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ধীমনখালি গ্রাম থেকে ৩৩ জন রোহিঙ্গাসহ সরওয়ার (১৯) নামের এক দালালকে আটক করা হয়। সে একই গ্রামের অলি আহমদের ছেলে। একইদিন সকাল ৬টার দিকে একই ইউনিয়নের আবদুর রহমান কাটা গ্রাম থেকে ২৯ জন রোহিঙ্গাসহ রফিক মৌলভী নামের অপর এক দালালকে আটক করা হয়। তিনি কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের নুর মোহম্মদের ছেলে।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি আবদুল মজিদ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে টেকনাফে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই দালালসহ ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জাদিমুড়া গ্রাম থেকে চারজন রোহিঙ্গাসহ এক দালালকে আটক করা হয়। আটক দালাল একই গ্রামের আবদুল মোনাফের ছেলে ওসমান গনি (৩২)। একই দিন সকাল ৬টার দিকে লম্বরিপাড়া গ্রাম থেকে চার রোহিঙ্গাসহ শাহ আলম (২৭) নামের অপর এক দালালকে আটক করা হয়। তিনি একই গ্রামের আবুল শামার ছেলে শাহ আলম (২৭)।

পতাকা বৈঠক : বিজিবি প্রতিনিধি দলের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, নিয়মমতো সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান, তথ্য আদান-প্রদান, নিয়মিত সীমান্তে অধিনায়ক পর্যায়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ, যৌথ টহল, বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস, বন্ধুত্বমূলক খেলাধুলার আয়োজন এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষ পরস্পরকে সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ব্যাপারে সম্মত হন। ২ ও ১১ নভেম্বর নাফনদী থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ১২ জেলেকে ফেরত দেয়ার ব্যাপারে অনুরোধ জানালে মিয়ানমার বিজিপি এ কমান্ডার ইতিবাচক সাড়া দিয়ে জানান, অপরাধ বিবেচনা করে তাদের ফেরতরে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তাছাড়া মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

বৈঠকে মিয়ানমার পক্ষে ৩১ সদস্যের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তু সান লিন। আর বাংলাদেশের পক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসানের নেতৃত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম মাহমুদ চৌধুরী, কর্নেল এম এম আনিসুর রহমান, কর্নেল মো. হাবিবুর রহমান, লে. কর্নেল মো. তৌহিদুল ইসলাম, লে. কর্নেল মো. আনোয়ারুল আযীম, লে. কর্নেল গোলাম মনজুর সিদ্দিকী, লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার, লে. কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদ, লে. কর্নেল এ আর এম নাসিরউদ্দীন একরাম, মেজর মো. আবদুস সালাম, মেজর মাহবুব সাবের, মেজর মেহেদী হাসান রবিন প্রমুখ।