উখিয়ায় পুলিশের হাতে আটক ৬২ জন রোহিঙ্গা : কোন মতেই ঠেকানো যাচ্ছেনা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

pic-1.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া ::
বাংলাদেশ – মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদী পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গারা দলে দলে এদেশে ঢুকছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি আটক রোহিঙ্গাদের পুশ ব্যাগ করতে সমস্যায় পড়েছে। যার ফলে রোহিঙ্গারা দেশে ঢুকে বিভিন্ন জায়গায় তাদের আতœীয় স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়ে পরে ওই খান থেকে সুযোগ বুঝে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আতœগোপনে চলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাতে উখিয়ার বালুখালী সীমান্তের উপারে বিজিবি রোহিঙ্গাদের পুশ ব্যাগ করতে গেলে মিয়ানমারের ঢেকিবুনিয়া ও চাকমাকাটা এলাকায় মিয়ানমার বিজিপি রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধ করতে দফায় দফায় গুলি বর্ষন করলে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার ভোর রাতে মিয়ানমারে মংডু জেলার খিয়ারী পাড়া, জামবুনিয়া, কুমরিয়া এলাকা থেকে মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন, নীপিড়ন, অত্যাচার ও ঘর বাড়ীতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ায় এবং হত্যা ও গণ গ্রেপ্তার করায় নাফ নদী দিয়ে টেকনাফের উনছিপেরাং এলাকা দিয়ে যাত্রী বাহি গাড়ীতে করে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আসার পথে উখিয়া থানা পুলিশ থাইংখালী ও বালুখালী এলাকা থেকে ৬২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। তৎমধ্যে ১৩ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী ও ৩৪ জন শিশু রয়েছে। উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের ওই সব আটককৃত রোহিঙ্গাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, ওই সব রোহিঙ্গাদের বিজিবির হাতে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। মিয়ানমার খিয়ারী পাড়া গ্রামের আনোয়ারা বেগম জানান, মিয়ানমারে যে ভাবে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণ হত্যা চলছে তা থেকে বাছার জন্য নিজ বসত ভিটা ছেড়ে নাফ নদী হয়ে প্রান বাচাঁনোর জন্য বাংলাদেশে চলে এসেছে। এখানেও যদি বাচতে না পারি মৃত্যু ছাড়া আর কোন পথ আমাদের জন্য খোলা নেই। খিয়ারী পাড়া থেকে ৭ মাসের শিশু নিয়ে আসা ছালেহা বেগম জানান, অবাজি বর্মামানি মৃত্যু। অর্থাৎ মিয়ানমারে থাকা মানি নিশ্চিত মৃত্যু বলে কান্নাজড়িত কন্টে বলেন, এখন আরার উপায় কি অইব। বর্তমানে মিয়ানমারে মংডু জেলার রাখাইন প্রদেশে যে ভাবে গণ গ্রেপ্তার, গণ হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন চলছে তা মগের মূল্লখে পরিণত হয়েছে। এ ভাবে কান্নজড়িত কন্টে ঝম্মনিয়া গ্রামের রফিক জানান, তার স্ত্রী, ছেলে মেয়ে, কোথায় রয়েছে সে জানে না। মৃত্যুর হাত থেকে বাচাঁর জন্য ৬ দিন অনাহারে পাহাড় দিয়ে পায়ে হেঁেট নাফ নদী পার হয়ে টেকনাফ নয়াপাড়া ঘাট দিয়ে এদেশে চলে আসে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার রাতে বিজিবি রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে ফেরত পাঠাতে গেলে ওপারে ঢেকিবুনিয়া ও চাকমাকাটা এলাকায় মিয়ানমার বিজিপি ব্যাপক গুলি বর্ষণ করলে, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির সদস্যরা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হয়। তিনি আরো বলেন, এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো কোনমতেই সম্ভব হবে না। উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, গতকাল বুধবার ভোর রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া দালাল সরওয়ার ও রোহিঙ্গা মৌলভী মোঃ রফিক কে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ করা ৬২ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃত রোহিঙ্গাদের সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য।