হোয়াইক্যং ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত দুই প্রভাবশালী মানবপাচারকারী বহাল তবিয়তে : ব্যাংক একাউন্টে ১০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন!

-পাচারকারী-1.jpg

আইনের আওতায় আনার দাবী এলাকাবাসীর
নিজস্ব প্রতিবেদক |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তৈরী সর্বশেষ ৪৬১ জন মানবপাচারকারীর মধ্যে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ প্রভাবশালী মানবপাচারকারী প্রকাশ্যে ঘুরলেও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নিরব ভুমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানব পাচারের অবৈধ টাকায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি আলীশান বাড়ি প্রশাসনের নজরে পড়লে ও তারা বীরদর্পে চলাচল করছে এলাকায়। এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই এরা এলাকায় বিচরন করে যাচ্ছে।
জানা যায়, স্বারষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দেয়া ৪৬১ জনের একটি তালিকা নিয়ে তাদের ব্যাংক একাউন্টের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট। কক্সবাজারে থেকে সাগরপথে মানবপাচারে জড়িতদের আয়ের উৎস জানতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের সকল ব্যাংকের শাখায় চিঠি পাঠিয়ে ইতিমধ্যে এ ৪৬১ জনের ব্যাংক একাউন্টের তথ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযোগ আছে, এই অবৈধ কর্মকান্ড ঘিরে লেনদেন হয় বিপুল অর্থের। তাই, চিহ্নিত মানবপাচারকারীদের অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের এই উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট। এজন্য তারা ৪৬১ সন্দেহভাজনের একটি তালিকা পাঠায় কক্সবাজার অঞ্চলের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এসব ব্যক্তির নামে ব্যাংক হিসাব থাকলে তাতে সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রতি বিশেষ নজর রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। টেকনাফের বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপক জানান, ইতিমধ্যে তালিকা আমাদের হাতে পৌছেছে।
এদিকে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ মানবপাচারকারীদের বাড়িই কক্সবাজার অঞ্চলে। এর মধ্যে ৩৫৯ জনই টেকনাফের বাসিন্দা। উক্ত তালিকার মধ্যে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং এর মৃত হাফেজ আব্দুররহমানের পুত্র এনায়ত উল্লাহ,একই এলাকার মৌলভী আব্দুল আলীমের দুই পুত্র যথাক্রমে ছৈয়দ আকবর, মীর কাশেম ওরফে হোছন আহমদ এর নাম রয়েছে। যা একাধিকবার দৈনিক যুগান্তর সহ বিভিন্ন জাতীয়, স্থানিয় পত্রিকা, ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, হোছন আহমদ নিজের নামে একাউন্ট/হিসাব নং- না খুলে তার ছোট ভাইকে দিয়ে ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখার ০০৩৬৭৭ নং একটি কারেন্ট একাউন্ট খুলে। উক্ত হিসাব নম্বরে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ২বছরে প্রায় ৮/১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে। লেনদেনের পুরো টাকাই মানবপাচারের। তার নামে বেনামে আরো ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে। হোছন আহমদের রয়েছে স্থাবর অস্থাবর কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি। একই এলাকার আরেক মানবপাচারকারী এনায়ত উল্লাহ প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে দু‘তলা বিশিষ্ট বিলাস বহুল বাড়ি করে। কক্সবাজারে নিজের নামে রয়েছে পুরো এক ফ্লুরের প্লাট। উক্ত এনায়ত সাগর পথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় অসংখ্য মানুষ প্রেরণ করে।তার পাঠানো যুবকদের মধ্যে উনছিপ্রাং এর হাজী অলী আহমদের পুত্রৃৃৃৃ মোঃ আলী একই এলাকার বশরের পুত্র মোঃ ইসমাইল, মোটা অংকের টাকা নিয়ে চরম প্রতারণা করে। দীর্ঘদিন সাগরে ভাসমান থাকার পর তাদের সলিল সমাধির খবর প্রচার হয়। পরে বছর খানেক পর তারা জেল খেটে দেশে ফিরে আসে। উক্ত মানব পাচারকারী এনায়ত ফিরে আসা যুবকদের অভিভাবকদের হুমকির মুখে জিম্মি করে রাখে। এছাড়া এনায়ত মানবপাচার ছাড়া ও সীমান্তে নানা চোরাচালান ব্যবসার সাথে জড়িত বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। উভয় মানবপাচারকারীকে লালন পালন করছে স্থানিয় এক মেম্বার। প্রায় ২যুগ জামায়াতের রাজনীতি করার পর উক্ত মেম্বার আওয়ামীলীগের সাইনবোর্ড দিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে নিমিষেই পার পেয়ে যাচ্ছে কথিত দুই মানব পাচারকারী সহ নানা অপরাধীরা। এলাকাবাসী দুই শীর্ষ মানবপাচারকারী কে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।