বিয়ে করলে ধর্ষণের অপরাধ মাফ!

turkey_rape_law_31159_1479477918.jpg

অনলাইন ডেস্ক |
তুরস্কে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো মেয়েকে ধর্ষণের পর যদি সেই মেয়েটিকে বিয়ে করে ধর্ষণকারী, তাহলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিয়ে ক্ষমা করে দেয়া হবে।

এমন একটি বিতর্কিত বিলে হঠাৎ করেই সমর্থন দিয়েছে তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টি। খবর বিবিসি বাংলার।

তুরস্কের মানবাধিকার এবং নারী অধিকার সংগঠনগুলো এই প্রস্তাবিত আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছেন, এই আইনের মানে দাঁড়াবে ধর্ষণকে আইনি বৈধতা দেয়া।

তুরস্কে সরকারি দল এ কে পার্টির এমপিরা প্রস্তাবিত এই আইনটিতে বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিকভাবে তাদের সমর্থন জানায়।

এই আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি শর্তে একবারের মতো ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে। শর্তটি হচ্ছে- তাকে ওই মেয়েটিকে বিয়ে করতে হবে।

প্রস্তাবিত এই আইনটিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিটি ধর্ষিতা ওই মেয়েটিকে বিয়ে করলে তার সাজা মওকুফ করা হবে এবং তার বিচার খারিজ হয়ে যাবে।

সরকার বলছে, এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- যারা না বুঝেই অল্পবয়সী কোনো মেয়ের সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছে তাদেরকে বিয়ে করার সুযোগ দেয়া।

তবে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে যেসব গ্রুপ, তারা এর তীব্র সমালোচনা করছে। তারা বলছেন, যেসব পুরুষ জেনেশুনেই এই কাজটি করছিল তাদেরকেও এই আইনের আওতায় ক্ষমা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে ধর্ষণ আইনি বৈধতা পেয়ে যেতে পারে।

আগামী মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এই আইনটি পাস হলে তিন হাজারের মতো পুরুষ এই অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে।

জরিপে দেখা গেছে, তুরস্কে গত কয়েক বছরে যৌন হয়রানির সংখ্যা বেড়েছে এবং দেশটিতে নারীদের ৪০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।