রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

.jpg

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া |
মিয়ানমারের আরকান প্রদেশে মংডু ও বুচিডং জেলার বিভিন্ন স্থানে সে দেশের সেনা ও সীমান্ত রক্ষী বিজিপির হাতে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের মাঝে চলা সহিংসতার মাস পেরিয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা গুলো নাফ নদীতে মিয়ানমার বিজিপির পাশা পাশি সেদেশের সেনা নৌ বিমান বাহিনী পুলিশ ও কোষ্ট গার্ডের যৌথ টহল ও অভিযানের প্রেক্ষিতে সীমানা নদী নাফ নিরর্ভরশীল শত শত জেলে পরিবারের মাঝে আতংক ও দুর্ভোগ চলছে। ইতি মধ্যে নাফ নদীতে মৎস্য শিকাররত ১২ জন বাংলাদেশী জেলেকে মিয়ানমার যৌত বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশী জেলেদের ফিরিয়ে আনার জন্য জোর তৎপরতা চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে মিয়ানমার বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গারা ফের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। টেকনাফ বিজিবি ও কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি দু দফা ১১৬ জন রোহিঙ্গাকে সীমান্ত দিয়ে পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় আটক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। মিয়ানমারের যে সংঘাত চলছে এর প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশংকা করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত বিজিবর সদস্য মোতায়ন করে টহল জোরদার করা হয়েছে।

১৯৭৮ সালে আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন নীপিড়নের কথা বলে বাংলাদেশে চলে আসে। ক’টনৈতিক পর্যায়ে দু দেশের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা ফেরত গেলেও ওই সময় কিছু রোহিঙ্গা থেকে যায়। তারা বিভিন্ন জায়গায় বসত বাড়ী তৈরি করে বসবাস করছে।

এর পর ১৯৯১ সালের শেষের দিকে আবারো নির্যাতনের কথা বলে ২ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা এ দেশে চলে আসে। বেশির ভাগ রোহিঙ্গা চলে গেলেও উখিয়া টেকনাফের দুইটি রোহিঙ্গা শিবিরের প্রায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা রয়ে গেছে।

২০০৫ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ হয়ে যায়।

২০১২ সালে মিয়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে অভিযোগ তোলে আবারো ৫০ হাজারের মত রোহিঙ্গা নাগরিক ধেয়ে এসে উখিয়ার কুতুপালং, টেকনাফ লেদা এলাকায় ঝুঁপড়ি নির্মান করে বসবাস করে আসছে।

আবারো মাস ধরে চলছে মিয়ানমারে মুসলমানদের উপর রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন ও নীপিড়ন।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রচার হওয়ায় বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে যাতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষে সীমান্ত এলাকা জুড়ে অতিরিক্ত বর্ডার গার্ড বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্তের পরিস্থিতি কেমন জানতে চাইলে, কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করে সীমান্ত জোড়ে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।