টেকনাফে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

456677.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ।
চলতি সনে টেকনাফে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এবছর প্রাকৃতিক পরিবেশ সহ সব কিছু কৃষকের অনূকুলে থাকায় আগের বছরের চাইতে ফলনও ভাল হয়েছে। ফলন ভাল হওয়াতে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে আরো বেশী ধান উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষক পাকা ধান কেটে আটি বেঁধে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ মাড়াইয়ের কাজ করছেন। আবার অনেকে কুলা/ফ্যান দিয়ে ধান পরিস্কারের কাজ করছেন।
এসময় কথা হয়, আলীখালী এলাকার কৃষক রবিজ আহমদের সাথে। তিনি বলেন এ বছর সুন্দর বর্ষা ও যথাসময়ে জমিতে সার দিতে পারায় ধানের ফলন আগের তুলনায় অনেক বেশী হয়েছে। ফলন ভাল হওয়াতে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশী ধান উৎপাদন হয়েছে।
কৃষি অফিস সুত্র জানায়, এবছর উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে ৫হাজার ৩শ ৮০হেক্টর, হ্নীলায় ১হাজার ৬শ হেক্টর, টেকনাফ সদরে ১হাজার ৩শ ৫০ হেক্টর, সাবরাংয়ে ১হাজার হেক্টর, বাহারছড়ায় ১হাজার ৪শ হেক্টর, পৌরসভায় ৫হেক্টর ও দ্বীপ ইউনিয়নে সেন্টমার্টিনে ৯০ হেক্টর সহ ১০হাজার ৮শ ২৫ হেক্টর জমি চাষাবাদের কথা থাকলেও বেড়িবাঁধের ভাঙ্গনে ৫হেক্টর জমিতে চাষ করা সম্ভব হয়নি বলে কৃষি অফিস সুত্র জানায়।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, ১০হাজার ৮শ ২০হেক্টর জমির মধ্যে ৫০হেক্টরে ব্রি ধান-১১, ১শ হেক্টরে ব্রি ধান-২৩, ১হাজার হেক্টরে ব্রি ধান-৩২, ৩হাজার ৭০হেক্টরে ব্রি ধান-৩৩, ২হাজার ২০হেক্টরে ব্রি ধান-৩৯, ২শ ৫০হেক্টরে ব্রি ধান-৪০, ২শ হেক্টরে ব্রি ধান-৪১, ২হাজার ৭০হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-৪৯, ১শ হেক্টরে ব্রি ধান-৫১, ১শ ৫০হেক্টরে ব্রি ধান-৫২, ২শ ১০হেক্টরে ব্রি ধান-৫৩, ১শ ৫০হেক্টরে ব্রি ধান-৫৪, ৩০হেক্টরে ব্রি ধান-৫৬, ২০হেক্টরে ব্রি ধান-৫৭, ৩শ হেক্টরে বিনা-৭, ২০হেক্টরে বিনা-৯ সহ ৯হাজার ৭শ ৪০হেক্টর জমিতে ১৬প্রকার উফশী জাতের চাষ করা হয়।
অন্যদিকে ৩০হেক্টরে এরাইজ গোল্ড নামের হাইব্রিড ধানের চাষ করা হয়। আবার ২শ হেক্টরে লেম্ব্র, ৩শ হেক্টরে বিন্নি, ৩শ হেক্টরে লাল পাজাম, ২শ ৫০হেক্টরে কালাম পাজাম নামের স্থানীয় জাতের চাষ করা হয়। তবে ব্রি ধান-৩৩ ও ব্রি ধান-৩৯ জাতের ধান চাষে বেশী করতে দেখা গেছে। উপজেলায় এবারে আমন ধানের চাউলের লক্ষ্যমাত্রা ২৮হাজার ৩শ ২১মে: টন। অর্জিত হয়েছে ৩০হাজার ২শ ৫৬মে: টন চাউল।
সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণে কৃষকরা জমিতে চারা রোপন করে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে পাকা ধান কাটে। অন্য মৌসুমের তুলনায় এবছর কার্তিক মাসের শুরুতেই ধান কাটার রীতিমত ধুম পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, আগের তুলনায় ধানের ফলন ভালই হয়েছে। এবারে তারা ধান ক্ষেতে অতিরিক্ত পার্সিং করায় কম খরচে ধানের ভাল ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন। পাশাপাশি এ পদ্ধতি অনুসরণ করায় পোকা মাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় বাড়তি খরচ হয়নি। এতে করে কৃষকের যেমনি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকরা বেশী ধান হাসিমুখে ঘরে তুলতে পেরেছে।

এবছর হাইব্রিড প্রজাতির এরাইজ গোল্ড জাতের ধান প্রতি ৪০শতক জমিতে ১শ আড়ি ধান উৎপাদন হয়েছে বলে নাটমুরা এলাকার কৃষক জালাল উদ্দিন জানান।

দমদমিয়া এলাকার কৃষক ঠান্ডা মিয়া ও আবুল হাসেম জানান, ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে লোনা পানি প্রবেশ করাতে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।

লেদা এলাকার হোসন আহমদ জানান, সুন্দর বর্ষা ও যথাসময়ে জমিতে সার দিতে পারায় ধানের ফলন আগের তুলনায় অনেক বেশী পড়েছে।

মাহবুব মোরশেদ জানান, এবছর আমি ২৪কানি জমিতে ধান চাষ করেছি। প্রতি কানি জমিতে ৭০/৮০ আড়ি ধান পড়েছে।

উপসহকারী কৃষি অফিসার শফিউল আলম জানান, কৃষকরা জমিতে পার্সিং পদ্ধতি করাতে ফলন বেশী হয়েছে। কৃষি উদ্ভাবনীয় আধুনিক পদ্ধতিতে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে বিষ প্রয়োগ না করায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়েছে।

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: শফিউল আলম দৈনিক বলেন, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী মৌসুম থেকে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষের মাধ্যমে ফলন আরো বেশী বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি সনে সারের সংকট না থাকায় কৃষকরা সুষম সারের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জমিতে সার প্রয়োগ, আবহাওয়া অনুকূল, আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় পার্সিং ও লাইনিং পদ্ধতি কৃষকরা অনুসরণ করাতে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশী ফলন হয়েছে।

আগামীতে কৃষকদের মাঝে আরো বেশী পাসিং, লাইনিং সহ বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।#