চরম উৎকণ্ঠায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে ১২ জেলে পরিবার

teknaf_30831_1479224170.jpg

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ টুডে ডটকম |
চরম উৎকণ্ঠায় ১২ জেলে পরিবারধরে নিয়ে যাওয়া জেলে ইসমাঈলের স্ত্রী আমেনা ও তার তিন সন্তান।
অভাব-অনটন আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে মিয়ানমার বর্ডার পুলিশ-বিজিপি’র ধরে নিয়ে যাওয়া ১২ জেলের পরিবারের।

চলতি মাসের শুরু থেকে নাফ নদী ও সেন্টমার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে মাছ শিকারের সময় ১২ বাংলাদেশী জেলেকে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি।

এদের মধ্যে ২ নভেম্বর নাফ নদী থেকে নৌকাসহ ২ জেলে, ৯ নভেম্বর সেন্টমার্টিনের কাছে বঙ্গোপসাগর থেকে একটি ট্রলার ও জালসহ ৬ জেলে ও সর্বশেষ নাফ নদী থেকে পুনরায় একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারসহ আরও ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি।

ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জোর চেষ্টা চালানো হলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সাড়া না দেয়ায় তাদেরকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ সফল হয়নি।

এমনকি ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে বার্তা নিয়ে একজন বাহককে মিয়ানমারে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও মিয়ানমার তাদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই জানিয়ে সেই প্রক্রিয়ায়ও সাড়া দেয়নি।

এ ব্যাপারে বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে তিন দফায় জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের যথাযথ সাড়া না পাওয়ায় জেলেদের ফিরিয়ে আনা যায়নি।

তবে আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশের ঘুমধুম সীমান্তে বিজিপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত আছে। পতাকা বৈঠকে জেলেদের ব্যাপারে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছে বিজিপি।

এর আগে বিজিবিকে মিয়ানমার থেকে জানানো হয়েছিল, ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মিয়ানমার সীমানায় পাওয়া গেছে। তাই তাদেরকে আটক করে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে। তাদেরকে ফিরিয়ে আনা যাবে কি না তা নিয়েও পরিবার শংকিত। এছাড়া পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে অভাব-অনটনে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

মঙ্গলবার পৌরসভার চৌধুরীপাড়া জেলে পল্লীতে গিয়ে কথা হয় গত ২ নভেম্বর ধরে নিয়ে যাওয়া জেলে ইসমাঈলের স্ত্রী আমেনার সঙ্গে। আমেনা জানায়, ছোট তিনটি সন্তান নিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে তার দিন কাটছে। মাছ কুড়িয়ে ও পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন।

একইভাবে সেন্টমার্টিনের ফিশিং ট্রলারটির মালিক নাসির জানান, জেলে পরিবারগুলোতে চলছে কান্নাকাটি। তবে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় কোনো রকমে তাদের পরিবারে খাবারের ব্যবস্থা হলেও জেলেরা ফিরে না আসলে পরিবারগুলো সংকটে পড়বে।

ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হচ্ছেন- টেকনাফ পৌরসভার উত্তর চৌধুরী পাড়ার কবির আহমদের ছেলে হামিদ হোসন(৪০), মো. ইসলামের ছেলে মো. ইসমাঈল (৩২), দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার সিকান্দরের ছেলে নুর হোসেন(৪৫), উত্তর জালিয়াপাড়ার আবদুল মালেকের ছেলে আব্দুর রহমান(৩২), চৌধুরী পাড়া এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে মো. ইউনুছ (২৫), আবদুল আমিনের ছেলে মো. খালেক(১৮), সেন্টমার্টিন কোনার পাড়ার বাসিন্দা শাইর আহমদের ছেলে আবদুল হামিদ মাঝি (৩৫), অছিউর রহমানের ছেলে ফজল আহমদ (৪২), অলি চানের ছেলে হাসিম (৪৫), দক্ষিণ পাড়ার লাল মিয়ার ছেলে সাদ্দাম (২৫), মোহাম্মদ ইসমাঈলের ছেলে মো. হোছাইন (২৫) ও নূর মোহাম্মদের ছেলে রশিদ উল্যাহ (৪৩)।