ঘুমধুম পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার সাত দিন পর বাদীর স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

1510.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকেঃঃ
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এসআই এরশাদ উল্লাহ ও এএসআই মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করার সাত দিন পর বাদীর স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ দাবী করছে পাচারের জন্য ইয়াবা মজুদ রাখায় ছৈয়দ নুর নামে এক ইয়াবা পাচারকারীকে আটক করেছে তারা।
আদালতে দায়ের করা মামলার বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, গত ৬নভেম্বর রাতে ঘুমধুম পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এসআই এরশাদ উল্লাহ ও এএসআই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে সাদা পোষাকধারী ৬জন পুলিশ সদস্য উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জলপাইতলী এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ নুরের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাংচুর চালায়। এসময় বাড়ির কর্তাকে না পেয়ে এসআই এরশাদ উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের বাড়িতে গিয়ে ছৈয়দ নুরকে মারধর করে মারাত্মক আহত করে। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা ছৈয়দ নুরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ ঘটনায় ৯নভেম্বর ছৈয়দ নুরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে বান্দরবান চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘুমধুম পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এসআই এরশাদ উল্লাহ ও এএসআই মোবারকসহ অজ্ঞাত ৬পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি সিআর ১২৩/১৬ মামলা রুজু করেন। পরে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট প্রবাল চক্রবর্তীর আদালত সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
ছৈয়দ নুরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম সাংবাদিকদের জানান- পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করায় এমনিতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ছিল ঘুমধুম পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এরশাদ উল্লাহ। মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলে তার স্বামীকে পুলিশ কোন মামলা ওয়ারেন্ট ছাড়াই আটক করে ইয়াবা মামলায় জড়িয়েছে বলে দাবী করেন।
এদিকে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ এ প্রতিবেদককে জানান- কয়েক দিন পূর্বে পুলিশ ছৈয়দ নুরকে আমার বাড়িতে এসে মারধর করে আহত করে। এর পর থেকে সে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসা শেষে ঘুমধুম বেতবুনিয়া বাজার এলাকায় আসলে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাসিঁয়েছে। পুলিশের এ ঘটনায় এলাকার জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান।
এদিকে ঘুমধুম পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এসআই এরশাদ উল্লাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান- গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুমধুমের জলপাইতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ছৈয়দ নুরকে ৩হাজার পিচ ইয়াবা সহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ঘটনা সত্য নয় বলে দাবী করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।