বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে মরক্কোর পথে প্রধানমন্ত্রী

pm_25010_1473832752.jpg

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে মরক্কোর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরক্কো যাত্রা করেন তিনি। মরক্কোর স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় ম্যারাকেশের মেনারা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

মরক্কোর মালাক্কায় ১৫ ও ১৬ নভেম্বর এ উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে ৫৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করবেন। ১৬ নভেম্বরই দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু সম্মেলন বিষয়ে রোববার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জলবায়ু বিষয়ক প্যারিস চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষরকারী ১৯৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ১০৯টি দেশ প্যারিস চুক্তি অনুসমর্থন করেছে। এ চুক্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আবশ্যকীয় শর্তাবলী পূরণ হওয়ার প্রেক্ষিতে ৪ নভেম্বর হতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

তিনি বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বছরের COP-২২ সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এ চুক্তির অভিষ্ট লক্ষ্যসমূহ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বনেতৃবৃন্দকে একীভূত করে একটি সুনির্দিষ্ট, কার্যকরি ও অভিন্ন কর্মপন্থা প্রণয়নে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা অর্জন করা COP-২২ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের বিস্তৃত প্রভাব মোকাবেলায় এবং চলমান বিশ্বজনীন আলোচনায় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে।

তিনি জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭১ তম অধিবেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে জলবায়ু বিষয়ক প্যারিস চুক্তিতে বাংলাদেশের Instrument of Ratification হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির অনুসমর্থন করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এই চুক্তি অনুসমর্থনকারী প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি। এতে বাংলাদেশের দৃঢ় সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে। বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশেষ দক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা, খরা, সাইক্লোনসহ উপকূলীয় মানুষের বিবিধ বিপন্নতার প্রেক্ষিতে আমাদের সাফল্য উল্লেখ করার মতো। আগাম সতর্কবার্তামূলক ব্যবস্থা, সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, নদী খননসহ বিবিধ পদক্ষেপ এই সরকার গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশেই প্রথম দেশ হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্লাইমেট চেঞ্জ তহবিল গঠন করেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মরক্কো সম্মেলনে যোগদাসহ সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পরিবেশবিদরা এ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।