উখিয়ায় দশ টাকার চাল লাখপতির ঘরে

10_taka_rice_29768_1478351090.jpg

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া |
উখিয়া উপজেলায় দশ টাকার চাল নিয়ে চালবাজি শুরু করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ ডিলাররা।এতে প্রকৃত গরিব,অসহায়,দুস্থরা চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দশ টাকার চাল যাচ্ছে ধনীদের বাড়িতে।বাদ যাননি জনপ্রতিনিধির আত্বীয় স্বজনরাও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নে গবীর দুস্থদের জন্য গত ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে দশ টাকার চাল বিত্রিু কার্যত্রুম।২২ জন ডিলারের মাধ্যমে একমাস দেরীতে শুরু হওয়া গবীরবান্ধব সরকারের এ কর্মসূচী নিয়ে উখিয়া উপজেলার সর্বত্র চলছে নয়ছয়।উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে মনখালী ৯ নং ওয়ার্ডের ডিলার আবু তাহের, বড় ইনানী এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের তারেক উল্লাহ,রতœপালং ইউনিয়নের প্রতিজন ডিলার,হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখার নুরুল আলম ও রাজাপালং ইউনিয়নের দু,জন ডিলার তাদের আত্বীয় স্বজনদেরকে তালিকায় অন্তভুক্ত করেছেন। দশ টাকা চালের কার্ড পেয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আত্বীয় স্বজনরাও।এছাড়াও এমন দু,শতাধিক ব্যক্তি ১০ টাকা দামের চাউলের কার্ড পেয়েছেন যাদের প্রত্যেকের ৫ থেকে ১৫ বিঘা জমি রয়েছে।আছে ব্যবসা-বাণিজ্যও। বিপরীতে রাজাপালং ইউনিয়নের জাদিমুরা গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক আব্দুস সবুর, রিকসাচালক আলাউদ্দীন, আব্দুস সালাম। খয়রাতি ও হরিনমারা গ্রামের আব্দুল আলীম, মনিরুল ইসলামসহ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ ১০ টাকা দরের চালের কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।এলাকাবাসী বলছেন,স্থানীয় মেম্বাররা চেহারা দেখে বেছে বেছে তাদের আত্মীয়স্বজন ও পছন্দের লোকদের কার্ড দিয়েছেন। এক্ষেত্রে মেম্বাররা কার্ড প্রতি ১০০ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। সবচেয়ে বেশী অভিযোগ রতœপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে। রতœাপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী ও নুরুল আমিন চৌধুরী তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়নে কার্ড বিতরনে কোন অনিয়ম হয়নি। ৫ নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বালুখালী এলাকার ইউপি সদস্য নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তা তদন্ত করে দেখা হবে। বেশির ভাগ অনিয়ম হয়েছে জালিয়া পালং ও রতœা পালং ইউনিয়নে। এ দুটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের সুবিধামত লোককে টাকার বিনিময়ে কার্ড দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।একঘরের মধ্যে দু,জনকেও কার্ড দেওয়ার নজির রয়েছে রতœপালং ইউনিয়নে। এমনকি কিছু এলাকার মেম্বারদের শাশুরবাড়ীর লোকদের নামেও কার্ড ইস্যু করা করেছে। রতœপালং ইউনিয়নে চালবাজির সবকিছুই নিয়ন্ত্রন করছেন চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী। তার নির্দেশেই মেম্বার ও ডিলাররা নয়ছয় করে দশ টাকার চালে চালবাজি করছেন। শুধু রতœপালং ইউনিয়ন নয়,উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে এভাবে চলছে দশ টাকা দরের চাল নিয়ে চালবাজি।চাল নিয়ে চালবাজির পাশাপাশি ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। দশ টাকার চাল নিয়ে চালবাজির ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা উপ খাদ্য পরিদর্শক পলাশ পাল বলেন,কয়েকটি স্পট পরিদর্শন করে কিছু অভিযোগ আমরাও পেয়েছি,কিন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা অনুয়ায়ী আমাদের কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে। এলাকায় কে গরীব কে ধনী তা আমাদের জানার কথা নয়,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই এ ব্যাপারে ভাল বলতে পারবেন। বালুখালী ১ নং, ২ নং ওয়ার্ডে কার্ড বিতরনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার নুরুল আবছার ভিজিডি, ভাতা ভোগী ব্যক্তিদের নামে ও বয়স্ক, বিধবা ভাতা, মধ্যপ্রচ্য বসবাসরত ধর্ণ্যট্য ব্যক্তি ও একই ব্যাক্তির নামে ২ টি কার্ড এবং একই পরিবারে একাধিক ব্যাক্তির নামে ১০ কেজি চাউলের কার্ড বিতরন করেছে। এ ছাড়াও অস্তিস্থহীন ও ধনী ব্যক্তিদের নামে কার্ড প্রদান করা হয়েছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীর পক্ষে ফজল কাদের চৌধুরী ভুট্রো গত ৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,সপ্তাহে ৩ দিন মুক্রবার ,শনিবার ও মঙ্গলাবার দশ টাকার চাল বিক্রিকরছে ডিলাররা। তিনি বলেন, বালুখালী থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটি ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

##