মৃত ব্যক্তির কাছে ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি

10_taka_rice_29768_1478351090.jpg

ফাইল ছবি

গৃহবধূ সরসা বানু প্রায় ১ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু সরকারের খাদ্যাবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় সুবিধাভোগী হিসেবে তার নাম তালিকাভূক্ত ও তার কাছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের চাল বিক্রি দেখানো হয়েছে।

চাল বিক্রির মাষ্টার রোলে মৃত সরসা ভানুর টিপসইও দেখিয়েছেন ডিলার। এমনকি তার দুই ছেলে, ছেলেদের বউ, নাতি ও তাদের বউসহ একই পরিবারের ৯ জনের নামে তালিকা করে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার রাউতি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি ও চাল বিক্রির ক্ষেত্রে এমন নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ছাড়া ওই ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রিতে একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড ইস্যু করাসহ তালিকায় নাম থাকার পরও সুবিধাভোগীদের চাল না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য খোদ রাউতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রাউতি ইউনিয়নের মেছগাঁও গ্রামের আবু ছিদ্দিকের স্ত্রী রহিমা আক্তারকে ৬৮ নম্বরে তালিকাভূক্ত তার নামে কার্ড ইস্যু করা হয়। কিন্তু ওই তালিকায় ১৪৮ ও ৪০২ নম্বরেও রহিমা আক্তারের নামে আরও দুটি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই গ্রামের খুদরত আলীর স্ত্রী বিউটি আক্তারের নাম তালিকায় ২৫ ও ২৪৪ নম্বরে, ইব্রাহিমের ছেলে রেনু মিয়ার নামও ৩৮৮ ও ৫৫৯ নম্বরে অন্তর্ভূক্ত করে চাল উত্তোলন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে হরিগাতি গ্রামের সিরাজ মিয়ার মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী নার্গিসকে ৪৪৬ নম্বরে তালিকাভূক্ত করা হলেও তাকে চাল দেয়া হচ্ছে না। একইভাবে ওই ইউনিয়নের আবদুল হাকিম, রমিজা, নজরুল ইসলামসহ তালিকাভূক্ত অনেক সুবিধাভোগী চাল পায় না বলে অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন ও রাণীসহ কয়েকজন জানান, তালিকায় নাম থাকলেও ডিলার আমাদের চাল দেয় না। চাল পাইলে উপকার হতো।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রাউতি ইউনিয়নের ডিলার ও ২নং ওয়ার্ডের জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি মো. বকুল মিয়া বলেন, সবাইকে চাল দেয়া হয়।

মৃত ব্যক্তির নামে চাল দেয়া এবং মাষ্টার রোলে টিপসই দেখানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম প্রথম না বুঝে অন্য কেউ কার্ড নিয়ে আসলেও চাল বিক্রয় করা হয়েছে। চাল বিক্রি করলে স্ব স্ব ব্যক্তির নামে মাস্টাররোলে টিপসই রাখতে হয়। তাই টিপসই দেখানো হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির নাম তালিকাভূক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে রাউতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, এই নামটি দিয়েছেন ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নেতারা।

একই ব্যক্তির নাম একাধিক নম্বরে তালিকাভূক্ত করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ইউপি মেম্বার ও রাজনৈতিক নেতারা আলাদা আলাদাভাবে নামের তালিকা দেয়ায় একই পরিবারের একাধিক নামসহ একই ব্যক্তির নাম একাধিক নম্বরে তালিকাভূক্ত হয়েছে। তবে এসব নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।

হতদরিদ্রদের তালিকা বাছাই কমিটির সভাপতি ও তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।