পেকুয়ায় জিয়া কলেজে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে হামলা-ভাংচুর : ৩শিক্ষক গুরুতর আহত

pekua-pic-06-11-2016-1.jpg

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী;পেকুয়া |
কক্সবাজারের পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে বেপরোয়া হামলায় তান্ডবের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ওই কলেজের তিন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিক্ষকরা হলেন, কলেজের ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক মো. আলম, প্রভাষক মো. বশির ও জীব বিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক এনামুল হক।

রোববার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়া জিয়াউর রহমান উপকুলীয় কলেজে এ হামলার ঘটনাটি সংগঠিত হয়।

কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজের হোস্টেল ভবনের নিচে পেকুয়া কলেজ ছাত্রদল নেতা ও কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে কলেজের ৭/৮ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী জড়ো হয়ে কলেজের শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এসময় কলেজের ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক ছাত্রাবাস থেকে কলেজের একাডেমিক ভবনে আসার পথে ছাত্রদল নেতা সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বের শিক্ষার্থীরা তার উপর হামলা চালায়। এসময় ওই শিক্ষককে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মো. আলম। হামলাকারীরা তাকেও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেঠাতে শুরু করে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বের চিহ্নিত ক্যাডাররা। পরে, ছাত্রদল ক্যাডাররা কলেজের একাডেমিক ভবনের ৩য় তলায় উঠে জীব বিদ্যা বিভাগের প্রদর্শক এনামুল হক আজাদের উপরও হামলা করে। তারা শিক্ষক এনামুল হককে লাঠি দিয়ে বেদড়ক পিঠিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
হামলাকারী কলেজ ছাত্রবাসের জানালার কাঁচও ভাংচুর করেন বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদল ক্যাডাররা।
pekua-pic-06-11-2016-3
এসময় কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্ররা এগিয়ে এসে আহত তিন শিক্ষককে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট দাবী করেছেন, পেকুয়া জিয়া কলেজে শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত সালাহ উদ্দিন ছাত্রদলের কোন ইউনিটের নেতা বা কর্মী নয়। তবে ছাত্রদল সভাপতি তা অস্বীকার করলেও কলেজ শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত সালাহ উদ্দিন সরকার বিরোধী নানা আন্দোলন সংগ্রামে বেশ সরব ছিল এবং কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সে উৎপ্রোতভাবে সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।

হামলায় গুরুতর আহত কলেজের ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক প্রভাষক মো. আলম অভিযোগ করেছেন, কলেজ ছাত্রদল নেতা সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বেই তাকেসহ কলেজ শিক্ষক বশির ও এনামুল হকের উপর হামলার ন্যাক্কারজনক দৃষ্টতা দেখানো হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এদিকে হামলার ঘটনার বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ পেকুয়া থানার ওসিকে ফোনে অবহিত করে সহায়তা চান।

পরে, পেকুয়া থানার ও.সি(তদন্ত)র’ নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রায় ঘন্টা দু’য়েক ব্যাপী তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখেন। এসময় কলেজ ছাত্রদল নেতা সালাহ উদ্দিন, হিমেল, মিনার হোছাইন এর নেতৃত্বে ছাত্রদল ক্যাডারা পুলিশের উপর হামলা চেষ্টাসহ ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালণে ছবি তুলতে যাওয়া এক সংবাদকর্মীর ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে লাঞ্চিতের চেষ্টা করে।

তখন ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত পুলিশ বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ঘেরাও করে কেড়ে নেয়া সাংবাদিকের ক্যামেরা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করে। পরে, পুলিশ ছাত্রদল ক্যাডারদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি শান্ত করে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা ওসমান সরোয়ার বাপ্পীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ঘটনাস্থলে এগিয়ে শক্ত অবস্থান গ্রহন করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম.কফিল উদ্দিন বাহাদুর অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদল নামধারী ক্যাডাররা জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে মানুষ গড়ার কারিগর অত্র শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকদের উপর হামলা চালায়। ওই হামলাকারীরা ছাত্র দলের তালিকা ভুক্ত ও দলীয় পদবী ব্যাবহার করে পূর্বেও এধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
pekua-pic-06-11-2016-4
অপরদিকে, ঘটনার দিন গতকাল রোববার দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে জরুরী বিত্তিতে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান সভাপতিত্বে অনুষ্টিত ব্রিফিংএ বলা হয়, ‘গত ৩ নভেম্বর কলেজের ২য় বর্ষের নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ইংরেজী ১ম পত্রের পরীক্ষায় চলাকালে নকল করার সময় হাতেনাতে শিক্ষকরা মিনার হোছাইনকে বহিষ্কার করেন। পরে তাকে বহিস্কার নোটিশ দেওয়া হয়।
কলেজ অধ্যক্ষ আরো বলেন, কলেজের কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী বিনা কারণে কলেজের তিন শিক্ষকের উপর ন্যাক্ষরজনক হামলা চালিয়েছে। আমরা যাদের পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করার সংগ্রাম করছি সেই ছাত্ররাই উল্টো আমাদের শিক্ষকের উপর হামলার বর্বরতা প্রদর্শন করেছে। শিক্ষকদের উপর হামলাকারীদের কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবেনা। তদন্ত করে শিক্ষকদের উপর হামলাকারী ছাত্রদের চিহ্নিত করে থানায় মামলা দায়ের করা হবে। অধ্যক্ষ এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান বলেন, বিষয়টি কলেজ পরিচালা কমিটির সভাপতিকে অবগত করা হয়েছে। শিঘ্রই বোর্ড গঠন করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, মংখেইরী রাখাইন, মোস্তাফা জামান খারেছ, মোঃ আবুল হাসেম, মোঃ আজম খান চৌধুরী, প্রভাষক মোঃ নাজেম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, জসিম উদ্দিন, বাবু সজিত কুমার দেবনাত, মোঃ নুরুল হুদা, বাবু সন্তুষ বিশ^াস, আজিজুল হক, ড. মোঃ জাকির হওলাদার, প্রদর্শক মোঃ নাছির উদ্দিন, মোঃ আবু হানিফা। কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য মৌলানা আমির হোসেন, সাহাব উদ্দিন, রফিক আহমদ, মাষ্টার এনামুল হক, শামশুল আলম ও মাষ্টার বজলুর রহমান প্রমূখ। সভায় সর্বসম্মতি ক্রমে উপস্থিতরা ছাত্র নামধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহনের কথাও জানান। উপস্থিত শিক্ষকরা অনাকাংখিত ভাবে কলেজ শিক্ষকদের উপর বর্বর ও ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও অভিলম্বে হামলাকারীদের ছিহ্নিত করে গেপ্তার পূর্বক দৃষ্টন্ত মুলক শাস্তির ব্যাবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান। পেকুয়া থানার এসআই বিমল কান্তি দেব জানান, কলেজে শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনার খবর পেয়ে ও.সি(তদন্ত) মহোদয়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সরোজমিন ঘটনাস্থলে পরিদর্শন ও সার্বক্ষনিক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আহত মিক্ষকরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।