চকরিয়ায় চিংড়ি চাষী কাদের হত্যা মামলা তুলে নিতে আসামি পক্ষের হুমকি

.png

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া |
চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের চিংড়ি চাষী আবদুল কাদের হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা দিব্যি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো মামলার বেশির ভাগ আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ অবস্থায় আসামি পক্ষের নানা হুমকির কারনে মামলার বাদি ও পরিবার সদস্যরা চরম আতঙ্কে রয়েছে। মামলাটির বাদি নিহতের ভাই নুর কাদের শুক্রবার বিকেলে চকরিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেছেন।
মামলার বাদি উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের গুদামপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ নুরন্নবীর ছেলে নুর কাদের জানান, বদরখালী ইউনিয়নের গুদামপাড়া সমিতি থেকে একটি মৎস্য প্রকল্প নিলামে খরিদ করে চিংড়ি চাষাবাদ করে আসছিলেন। বাদির পাশাপাশি ছোট ভাই আবদুল কাদের প্রায় সময় চিংড়িঘেরে অবস্থান করে দেখভাল করতেন। ঘটনারদিন চলতিবছরের ২৬জুন রাতে চিংড়িঘেরের খামারঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন বাদির ভাই আবদুল কাদের।
মামলার আর্জিতে বাদি নুর কাদের বলেন, ঘুমে থাকা অবস্থায় ৭-৮জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ঘটনারদিন রাত আনুমানিক দুইটার দিকে হানা দিয়ে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ভাই আবদুল কাদেরকে রামপুর মৌজার কৌদাইল্যা ঘোনাস্থ মৎস্য প্রকল্পে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা তার ভাই আবদুল কাদেরকে বেধম মারধর করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে অস্ত্রধারীদের মধ্যে ফজল এলাহী ওরফে ভুলু ডাকাত বুকে গুলি করে আবদুল কাদেরকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেরে অস্ত্রধারীরা তাকে ফেলে চলে যায়। বাদি নুর কাদের জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ভোররাতে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর অবস্থায় আবদুল কাদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে ইলিশিয়া এলাকায় মারা যায় তার ভাই।
এ ঘটনায় ২৯জুন চকরিয়া থানায় ৬জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই নুর কাদের। মামলার আসামিরা হলেন উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের ছৈন্যারমারঘোনা এলাকার হাবিব উল্লাহ’র ছেলে মো.ফরমান, সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত নজির আহমদের ছেলে মনছুর আলী, মনছুর আলীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ঈদমনি এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে ফজল এলাহী ওরফে ভুলু ডাকাত, সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে নাজেম উদ্দিন প্রকাশ নাজেম ডাকাত ও আকাম উদ্দিনের ছেলে জাফর আহমদ প্রকাশ জাফর ডাকাত। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরো ৭-৮জনকে।
চকরিয়া থানার ওসি মো.জহিরুল ইসলাম খাঁন মামলাটি রুজু করার পর তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেন থানার অপারেশন অফিসার এসআই তারভীন আহমদকে। ঘটনার পরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে মামলার এজাহারনামীয় ৪নম্বর আসামি ফজল এলাহী ওরফে ভুলু ডাকাতকে গ্রেফতার করলেও এখনো অন্য অভিযুক্ত আসামিদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলাটির বাদি নুর কাদের অভিযোগ তুলেছেন, মামলার অভিযুক্ত অন্য আসামিরা বর্তমানে এলাকায় রয়েছে। তাঁরা নিয়মিত চিংড়ি চাষাবাদসহ ব্যবসা বাণিজ্য করছে। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে ধরতে পারছেনা। বাদির অভিযোগ, এলাকায় প্রকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে আসামিরা। বর্তমানে মামলা তুলে নিতে আসামি পক্ষের লোকজন হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থার কারনে চরম আতঙ্কে আছেন বলে দাবি করেন মামলার বাদি নিহতের ভাই নুর কাদের।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার এসআই তানভীর আহমদ বলেন, আসামিরা এলাকায় আছে একথা সত্যি। কিন্তু বাদির কথা মতো তো আমি আসামি গ্রেফতার করতে পারবো না। কারন মামলার অভিযুক্ত করা আসামিদের অনেকে ঘটনায় জড়িত নেই, তদন্তে তা পেয়েছি। তাই দেখে শুনে আসামি গ্রেফতারে অভিযান করা হবে।