উখিয়ায় ডিএসবি পুলিশের ঘুষ বানিজ্য

images-1.jpg

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া |
উখিয়া উপজেলায় পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের নামে ডিএসবি পুলিশের গিয়াস উদ্দিন ও কাউছার সাধারন মানুষের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তাদের টাকা না দিলে সঠিক ভাবে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন হয়না। আর যারা টাকা দেয় তাদের আবাসিক হোটেলের রুমে বসে বিনা তদন্তে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আছে। এ অবস্থা দীর্ঘ দিন ধরে বিরাজ করলেও পরিবর্তন হচ্ছেনা প্রতিবাদ করছেনা কেউ। ডিএসবি,র নিয়োজিত দালাল নুরুল ইসলাম সোহেলের কবল থেকেও রক্ষা পা্েচ্ছনা সাধারন মানুষ। ডিএসবি পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে সোহেল সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোর পূর্বক ও বাধ্য করে টাকা আদায় করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিএসবি পুলিশের দালাল সোহেল নিজেকে এলাকার জনগনের কাছে ডিএসবি পুলিশ হিসেবেই পরিচয় দিচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে জরুরী পাসপোর্ট বানানোর মাধ্যমে ওমরা হজ্ব পালন, ফ্যার্মেসী ভিসার যাত্রী ও রোগীরা। ডিগিলিয়া গ্রামের আবদু রহিম, চাকবেঠা গ্রামের হাবিব উল্লাহ জানান, দুবাই অথবা কাতার যাওয়ার জন্য তারা পাসপোর্টে অফিসে আবেদন করে সম্প্রতি। পাসপোর্ট তদন্তের জন্য সরকারীভাবে ডিএসবি পুলিশের কাউছার ও গিয়াসের কাছে পাসপোর্ট দুটি আসলে ভেরিফিকেশনের নামে তারা দালাল সোহলের মাধ্যমে ভোটার না হওয়ার অজুহাত ও কাগজপত্রে গড়মিল আছে মর্মে টাকা দাবী করে। তাদের চাহিদা মত টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করায় তারা পাসপোর্টে ভূল আছে উল্লেখ করে পাসপোর্টগুলো পুনরায় কক্সবাজার পাটিয়ে দেয়। এভাবেই চলছে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের নামে ডিএসবি পুলিশের ঘুষ বানিজ্য। শুধু আবদু রহিম ও হাবিব উল্লাহ নয়, প্রতিটি পাসপোর্টে ভুল থাক বা না থাক কমবেশী টাকা দিতে হয় কাউছার ও গিয়াসকে। এক্ষেত্রে পাসপোর্ট গ্রহীতার কাছ থেকে টাকা আদায়ের কাজটি করে দালাল সোহেল। কাউছার ও গিয়াসের হয়ে কাজ নির্বিঘেœ কাজ করার জন্য ইতিমধ্যে দালাল সোহেলকে কিনে দেওয়া হয়েছে মোটর সাইকেলে। এ মোটর সাইকেল নিয়ে কাউছার ও গিয়াসের পরিবর্তে দালাল সোহেলই উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পাসপোর্ট গ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কাজ করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এতে দীর্ঘদিন যাবত সাধারন যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ন। বিশেষ করে রোগী ও জরুরী কাজে বিদেশ গমনকারী যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশী। এলাকার ভোটার আইডি কার্ড থাকলেও রোহিঙ্গা তকমা দিয়ে, জমির কাজ ঠিক থাকলেও দাগ নাম্বার ঠিক নেই, স্বাক্ষর ঠিক থাকলে অস্পর্শ, এসব সাধারন অভিযোগে পাসপোর্ট গ্রহীতাদের ঘায়েলের মাধ্যমে কাউছার ও গিয়াস তাদের নিয়োজিত দালাল সোহেলকে লেলিয়ে দিচ্ছে সাধারন জনগনের পিছনে। এ ব্যাপারে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে কাউছার ও গিয়াস তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাসপোর্ট নিয়ে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছেনা শুধুমাত্র সত্যমিথ্যা যাচাই করা হচ্ছে।