মিঠাপানিরছড়ার ইয়াবা শামসু কি আটক !

samsu_444yyy.jpg

টেকনাফ টুডে ডটকম | বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মিঠাপানিরছড়া ও রাজারছড়া এলাকা থেকে এলাকার বেশ কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি টেকনাফ টুডে ডটকম এ ফোন করে জানতে চান মিঠাপানিরছড়ার ইয়াবা শামসু পুলিশের হাতে আটক হয়েছে কিনা ! এব্যাপারে একাধিক ফোন আসায় বিষয়টি আরও বিশদ জানতে চাইলে তারা জানান, রাত ৯টার দিকে মিঠাপানিরছড়া বাজারের সৈয়দ আহমদের তেলের দোকানের সামনে থেকে সাদা পোষাকধারী কিছু ব্যক্তি ধাওয়া করে শামসুকে আটক করে সিএনজিতে করে টেকনাফের দিকে নিয়ে আসে। তারা জানান, সাদা পোষাকধারী লোকেরা ধাওয়া করার সময় নিজেদের পুলিশের লোক বলে চিৎকার করে বলতে শোনেছেন।

এ ঘটনায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীও নাকি অনেকে আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, এই শামসু একজন অনেক বড় ইয়াবা গডফাদার। সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গোলাম হোসেনের ছেলে।

টেকনাফ বামিজ মার্কেটের একজন সামান্য দোকানদার থেকে সে ইয়াবা ব্যবসার বদৌলতে বর্তমানে কোটিপতির কাতারে নাম লিখিয়েছেন বলে জানান তারা। মিঠাপানিরছড়া নৌঘাটে নাকি তার ৮ টি মাছ ধরার ফিশিং ট্রলার রয়েছে। একই কালারের এই ফিশিং ট্রলার দিয়ে সুকৌশলে ইয়াবার বড় বড় চালান মিয়ানমার থেকে এনে সৈকত পয়েন্ট দিয়ে খালাস করে পর সারাদেশে পাচার করে দেয়।
ইয়াবা পাচারের জন্য সে গঠন করেছে রীতিমতো একটি বাহিনী। এই বাহিনী স্বশস্ত্র পাহাড়া দিয়ে ইয়াবার চালান খালাস করে থাকে। আবার ফেন্সিডিল ও গাঁজার চালান মিয়ানমারে পাচার করে এই শামসু।
তার প্রধান সহযোগীদের মধ্যে একই এলাকার মোঃ শফির ছেলে মো: সালাম বুতাইয়া ও জহির প্রকাশ বিএস জহির অন্যতম।
আর মাদক পাচারের সুবিধার জন্য নোয়াখালী পাড়া, মিঠাপানিরছড়া ও হাবিরছড়া এলাকায় সে গড়ে তুলেছে বেশ কয়েকটি নিরাপদ আস্তানা। এর মধ্যে নোয়াখালী পাড়া এলাকায় জনৈক কবির মেম্বারের ফার্ম এলাকার আখড়াটি সে সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করে বলে জানা গেছে।

শুধু তাই নই চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের মতো দামী জায়গায় নাকি তার রয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

এছাড়া তার এক ভাই বর্তমানে রিয়াজউদ্দিন বাজারের ঐ দোকান থেকে অাটক হয়ে বর্তমানে জেলে রয়েছে।

আরো জানা যায়, ২ কোট টাকা ব্যাংক জালিয়তির এক মামলায় তার বড় ভাই দুদকের মামলার আসামী।

বিষয়টি গুরুত্ব অনুধাবন করে রাত ১২টার দিকে টেকনাফ থানায় গিয়ে কর্তব্যরত কর্মকর্তা সাজু আহমদের সাথে কথা বলে জানা যায়, থানা হাজতে এ ধরনের কোন আটক ব্যক্তি নেই। তবে থানার বিভিন্ন অপারেশন টিম বাহিরে রয়েছে তারা ফিরলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
আবার থানার ভিন্ন একটি সূত্রে জানতে চাইলে পরে খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল মজিদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ইয়াবা শামসুর আটকের খবরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সচেতন মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা বাহিনীকে। সাথে সাথে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তারা।