নাইক্ষ্যংছড়িতে হাওলাত দেওয়া টাকা ফেরৎ না পেয়ে মহিলার বিষ পান

bishpan.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে:
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের এক মহিলা গত শুক্রবার (৪ নভেম্বার) আপন চাচাকে হাওলাত দেওয়া টাকা ফেরৎ না পেয়ে বিষ পান করেছে। গুরুতর অবস্থায় রকিমা খাতুন (২০) নামের ওই মহিলাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কম্বনিয়া গ্রাম এলাকায় ঘটেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে বিপদের আজুহাত দেখিয়ে ভাতিজি রকিমা খাতুন থেকে ৩০ হাজার টাকা মাত্র এক মাসের জন্য হাওলাত চেয়েছেন তার আপন চাচা হাসমত আলী। চাচার বিপদের কথা শুনে অপারক হয়ে স্বামীকে বুঝিয়ে কোন রখম বিশ হাজার টাকা হাওলাত দিতে সক্ষম হয় । ধার্য্য তারিখে হাওলাতি টাকা মাসের পর মাস কালক্ষাপন করতে দেখে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় চাচার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভাতিজি রকিমা খাতুন। সে খানেও বিচারের আশায় দিন গুণতে হয়েছে অনেক দিন।
টাকা পাওয়ার কোন কুল কিনারা না দেখে আবারও গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে চাচার বাড়ীতে গিয়ে হাওলাতি টাকা খুঁজার পর চাচা হাসমত আলী টাকা হাওলাতের কথা অস্বীকার করলে চাচার বাড়ীতেই বিষ পান করেন ভাতিজি রকিমা খাতুন।

আর এদিকে হাওলাতের টাকা ফেরৎ পাওয়ার জন্য মহিলার অভিযোগ দায়ের করা ও চাচা হাসমত আলীর বাড়ীতে বিষ পানের কথা নিশ্চিত করেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার এসআই শামীম আহম্মেদ।
সর্ব শেষ খবর পাওয়া যায় মহিলাটি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোন ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী জানান, রকিমা খাতুন তার চাচার কাছে হাওলাতি দেওয়া টাকা খুঁজতে গিয়ে টাকা দেওয়াতো দুরের কথা আরও অশ্মীল ভাষায় গালিগালাস করাতে সে বিষ পান করার খবর পেয়ে এলাকার সবাই মহিলাটিকে তাৎক্ষুনিক নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক গুরুত্বর অবস্থা দেখে সাথে সাথে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরার্মশ দেন।

ইউপি সদস্য মোঃ আলী হোসেন জানান, রকিমা খাতুন অনেক দিন যাবত চাচাকে হাওলাত দেওয়া টাকা ফেরৎ পাওয়ার জন্য এলাকার মেম্বার হিসেবে পারিবারিক বৈঠকে টাকা ফেরৎ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দিন তারিখ ধার্য্যও করা হয়ে ছিল। গ্রাম্য বিচারকরা টাকা উদ্ধার করতে না পারায় মহিলাটি অসাহয় হয়ে স্থানীয় থানায় একটি চাচার বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছেন। সে খানেও টাকা পাওয়ার আশা না দেখে ফের চাচার বাড়ীতে গিয়ে টাকার পরির্বতে উল্টো গালি শুনে বিষ পান করেছে বলে শুনে আমরা ঐ বাড়ীতে গিয়ে দেখি।
এসআই শামীম আহম্মেদ জানান, এই বিষয়ে তদন্তও চলছে।