টেকনাফে মূলা চাষে ভাগ্য ফিরেছে চাষীদের

unnamed-8.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ::
চলতি মৌসুমে মূলা চাষ করে টেকনাফ সীমান্তে শত শত কৃষকের ভাগ্য ফিরেছে। কম খরচে মূলা চাষ করে কল্পনাতীত টাকা আয় করতে পেরে কৃষক পরিবারে সীমাহীন আনন্দ দেখা দিয়েছে। অল্পসময়ে সহজ উপায়ে মুলা চাষে বেশী টাকা আয় করা সম্ভব বলেই অন্যরাও দিন দিন এচাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। উপজেলার অনেক কৃষক সবজি¦ চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলে দেওয়ায় সীমান্তের শত শত বেকার যুবক আগামী মৌসুম থেকে সবজি¦ ক্ষেত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। “সবজি¦ চাষ যে এত লাভজনক” আগে জানলে বছরজুড়ে ক্ষেত করতাম জানিয়ে রঙ্গিখালী এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, এবছর মূলা ক্ষেত করে আমাদের এলাকার অনেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছেন। হোয়াইক্যং রইক্ষ্যং এলাকার কৃষক নুরুল আলম ও আলম মেম্বার জানান, মূলা ক্ষেত করে এবছর যে টাকা পেয়েছি তা জীবনেও পায়নি। বাজারে মূলার দাম থাকায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরী সহায়তায় এবছর চাষীরা একই ক্ষেতে অন্তত ৩বার উন্নত জাতের বীজ বপন করে মূলা বিক্রি করে লাখ টাকা আয় করেছেন। মূলা অত্যধিক সুস্বাধু এবং পুষ্টিকর সবজি¦। এই সবজি¦তে কোন ধরণের পাশর্^প্রতিক্রিয়া না থাকায় মানুষের কাছে এর চাহিদাও খুব বেশী। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং, পুটিবনিয়া, বড়খিল, কম্বনিয়াপড়া, লাতুরীখোলা, হরিখোলা, হ্নীলার লেচুয়াপ্রাং, পানখালী, রঙ্গিখালী ও আলীখালী এলাকায় কয়েক‘শ কৃষক মূলা চাষ করে থাকেন। এদের বেশীর ভাগই এবছর টাকা আয় করে মহাখুশীতে রয়েছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, আষাঢ় থেকে কার্তিক ৪মাস মূলা চাষ করা যায়। এই চাষে তেমন সার এবং সেচের প্রয়োজন হয়না। মূলা চাষে প্রতি ৪০শতক জমিতে খরচ পড়ে সর্বসাকুল্যে ১৫-২০হাজার টাকা। ৪০শতক জমি থেকে ৭০-৮০মণ মূলা উৎপাদন হয়। প্রতি মণ মুলা মৌসুমের শুরুতে ১৮০০-২৪০০টাকা, বর্তমানে ১৫০০-১৮০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জমি একবার চাষের উপযোগী করলে উক্ত জমিতে ৩বার মূলার বীজ বপন করে ৭০-৮০মণ করে মূলা উৎপাদন করা যায়। গ্রামীণ কৃষকরা জানায়, এবছর টেকনাফে প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে ২হাজারের অধিক কৃষক মূলা চাষ করেছেন।
টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত মূলা এখানকার চাহিদা মিটিয়ে জেলার অন্য উপজেলাতেও রপ্তানী হচ্ছে। সড়ক পথে টেকনাফ বাজার এবং অন্য উপজেলায় উৎপাদিত মূলা নিতে গেলে রোড়-ঘাটে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে জানিয়ে অনেক কৃষক দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, রোড় এবং বাজারে কৃষকদের অযথা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। বাম্পার ফলনে কৃষক/কৃষাণীরা খুশী হলেও এখনো দাম না কমায় সীমান্তের সাধারণ মানুষের মূলা সবজি¦ খেতে কষ্ট হচ্ছে। রইক্ষ্যং এলাকার এক কৃষাণী দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, ১৫হাজার টাকা খরচে ৪০শতক জমিতে মূলা চাষ করে আল্লাহর রহমতে লাখের অধিক টাকা পেয়েছি। আগামীতে আরো বেশী জমিতে মূলা চাষের চিন্তাভাবনা করছি। কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, টেকনাফে চলতি মৌসুমে মূলার বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত কৃষি কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনায় মূলা চাষ করে কৃষকরা লাখ লাখ টাকা আয় করেছেন। এতে করে অধিক লাভবানের পাশাপাশি কৃষকরা যেমন খুশী হয়েছে ঠিক আমরাও খুশী হয়েছি। কৃষি সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শ এবং সব ধরণের সহযোগীতা নিতে তিনি কৃষকদের সদা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতা নেওয়ার পরামর্শ দেন।##