চকরিয়া-লামা হারগাজা সড়কে অস্ত্রের মুখে ৪জনকে অপহরণের দুইঘন্টার মধ্যে উদ্ধার! বিক্ষুদ্ধ জনতার পিটুনিতে ঘটনাস্থলে দুই অপহরণকারী নিহত

unnamed-4.jpg

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা-হারগাজা সড়কে পড়ে আছে বিক্ষুদ্ধ জনতার গনপিটুনিতে নিহত দুই অপহরণকারীর মরদেহ। পাশে লাশের সুরতহাল রির্পোট তৈরী করছে পুলিশ।

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া ::
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ও পাশের লামার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা সীমান্ত সড়ক থেকে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অস্ত্রের মুখে এক বাটারী ব্যবসায়ী ও তিন পরিবহন শ্রমিককে অপহরণ করা হয়েছে। তবে চকরিয়া ও লামা থানা পুলিশের সাড়াশি অভিযান এবং স্থানীয় জনগনের প্রতিরোধের মুখে দুইঘন্টার মধ্যে রাত ১২টার দিকে অপহরণকারী সন্ত্রাসীদের কবল থেকে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওইসময় অপহরণকারী দলের বেশির ভাগ সদস্য রাতের আঁধারে পাহাড়ের ভেতর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বিক্ষুদ্ধ জনতা দুই অপহরণকারীকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হয় ওই দুই অপহরণকারী।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের মৃত নুর আহমদের ছেলে বাটারী ব্যবসায়ী জাবের আহমদ (৫৫), লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে পরিবহন শ্রমিক আব্দুল হাকিম (৪০), একই ইউনিয়নের ফকিরাখোলা গ্রামের মমতাজ আহমদের পুত্র মনু (৪২), বজল আহমদের ছেলে কালা সোনা (৩৭)।
অভিযানে অংশ নেয়া চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো.কামরুল আজম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে লামা থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। তবে এখনো (গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটা পর্যন্ত) তাদের পরিচয় সঠিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও লামার ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টায় টমটম যোগে ডুলাহাজারা বাজার থেকে বাটারী ব্যবসায়ী নুর আহমদ হারগাজা যাচ্ছিলেন। অপরদিকে হারগাজা বাজার এলাকায় বাড়ি ফিরতে গাড়ির জন্য অপেক্ষামান তিন শ্রমিক অবস্থানকালে সেখানে মুখোশ পরা ১০-১২ জন অপহরণকারী অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদেরকে পাশের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। ওইসময় সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে সোনা মিয়া অপহরনের ঘটনাটি এলাকার লোকজনকে জানায়।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, অপহরণের ঘটনাটি তাৎক্ষনিক চকরিয়া থানা ও লামা থানা পুলিশকে জানানো হয়। পাশাপাশি এলাকার লোকজন অপহৃতদের উদ্ধারে তাৎক্ষনিক পাহাড়ে ঢুকে তল্লাসি অভিযান শুরু করে। এরই মধ্যে পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরাও অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন। অভিযানের এক পর্যায়ে অপহরণকারী দলের সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জনতার হাতে ধরা পড়ে দুই অপহরণকারী। পরে জনতার গনপিটুনিতে আটক দুই অপহরণকারী ঘটনাস্থলে নিহত হন।
প্রত্যক্ষদশীরা জানিয়েছেন, আটক দুই অপহরনকারী নিহত হওয়ার খবর পেয়ে রাত আনুমানিক একটার দিকে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ফকিরাখোলা এলাকায় পৌঁেছ চকরিয়া থানা ও লামা থানা পুলিশ, ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার ও ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত আলী দুইজনের লাশ উদ্ধার করেন।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, নিহত দুইজনের লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে।