আপিলে হেরে গেলে এমপি পদও হারাতে পারেন বদি

MP-Bodi20161102143416.jpg

বদি ফাইল ছবি

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এবার সংসদ সদস্য পদও হারাতে পারেন বহুল আলোচিত কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি। উচ্চ আদালতেও দণ্ড বহাল থাকলে আগামী সংসদ নির্বাচনেও তিনি অংশ নিতে পারবেন না। সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে তার।

সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদে রয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, তিনি যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া কমপক্ষে দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’

আর জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যকে তাহার পদে থাকার অযোগ্য মনে হইলে জাতীয় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ বিষয়ে জানানোর জন্য স্পিকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে চিঠি দিবেন।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাড. ফজলে রাব্বি জাগো নিউজকে টেলিফোনে বলেন, অনৈতিক কারণে সাজা হলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। তাছাড়া কোনো ব্যক্তির যদি দুই বছরের বেশি সাজা হয় তাহলেও তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের এক কর্মকর্তা বলেন, বদির সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে কিনা- এটা এখনো বলা যাচ্ছে না। কারণ তিনি যদি আপিল করে জিতে যান তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে না। তবে আপিলে হেরে গেলে তিনি সব হারাবেন।

উল্লেখ্য, বুধবার সকালে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহম্মেদ জমাদ্দার এ রায় ঘোষণা করেন। নিজের ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৩ টাকার সম্পদ গোপন করার অপরাধে দুদক আইনের ২০০৪ সালের ২৬(২) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।