প্রফেসর শামসু হত্যাকান্ডের দুই বছর আজ : মামলার প্রধান আসামীসহ মূল হোতার ধরা ছোয়ার বাইরে

p.samsu_.jpg

টেকনাফ টুডে ডটকম |
টেকনাফ ডিগ্রীা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম হত্যাকান্ডের দুই বছর পূর্ন হলেও মামলার প্রধান আসামীসহ মূলহোতারা এখনো ধরাছোয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।
মামলার প্রধান আসামী হোয়াইক্যং পশ্চিম মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার মৃত গোলাম সুলতানের ছেলে আব্দুল মালেক, মোঃ শফির ছেলে মোঃ জালাল, মোঃ হাসানের ছেলে আব্দু শুক্কুরসহ মামলার মূল হোতারা এখনো পলাতক রয়েছে। দুই বছরেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতার জালে আটকা পড়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করতে না পারায় মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে হত্যাকান্ডের অন্যতম হোতা মৃত ইলিয়াছের ছেলে মহিউদ্দিনকে মাস ছয়েক পূর্বে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ্য করলে সে বর্তমানে কারাগারো অন্তরীন রয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য আসামীরা জামিনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক শামসুল আলম নিহত হন। হোয়াইক্যংয়ের মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় জমি বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরন করেন। তিনি হোয়াইক্যং মহেষখালীয়া পাড়ার মৃত ফজল করিমের ছেলে।
জানা যায়, জমিজমার একটি বিরোধ নিয়ে সমঝোতা বৈঠক চলাকালীন অধ্যাপক শামসুর উপর হামলা চালায় মামলার আসামীরা। এসময় তিনি মাথায় জখমপ্রাপ্ত হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে অবস্থার আরো অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যুবরন করেন।
এঘটনার একদিন পর নিহত শামসুর স্ত্রী বাদী হয়ে ৩৪ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আইও তৎকালীন টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র প্রদান করেন।
বর্তমানে মামলাটি (জিআর ৬৩৫/২০১৪) কক্সবাজারস্থ টেকনাফ আমলী আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলার মূল বিচারিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
এদিকে মামলার মূল হোতা আব্দুল মালেকসহ অন্যরা গ্রেফতার না হওয়ায় স্বস্থিতে নেই বাদী ও স্বাক্ষীরা। মামলার প্রধান আসামী আব্দুল মালেক তার শ্বশুর বাড়ী উথিয়া খয়রাতী পাড়া এলাকায় আত্মগোপন করে আছে বলে জানা গেছে।
অবিলম্বে মামলার প্রধান আসামীসহ পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে তার পরিবার ও টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এই ব্যাপারে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান, ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামীসহ কয়েকজন এলাকার বাইরে আত্মগোপন করে আছে। তবে তাদেরকে গ্রেফতারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।