পেকুয়ায় শালিকার বাড়িতে দুলাভাই খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আমলে নিতে গড়িমসির অভিযোগ বাদীর

muktar-pekua.jpg

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী; পেকুয়া |

কক্সবাজারের পেকুয়ায় শালিকার বাড়িতে দুলাভাই খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আমলে নিতে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে দেখা করে মামলার বাদী এ অভিযোগ জানান। মোখতার হত্যা মামলার বাদী নিহতের ভ্রাতা দেলোয়ার হোসেন জানান, বিগত ২বছর পূর্বে তার শ্যালক দেলোয়ার হোসেনকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ২লাখ টাকা ধার নেই ভায়রা ভাই বাদশা মিয়া।৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও ২বছরেও তা পরিশোধ করেনি ভায়রা ভাই মোঃ বাদশা। অবশেষে গত ১০অক্টোবর নিহত মোখতারকে ভায়রা ভাই পাষন্ড মোঃ বাদশা মিয়া পাওনা টাকা পরিশোধের কথা জানিয়ে তার মগনামাস্থ্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। পরে ওইদিনই ভায়রা ভাই বাদশা তার বাড়িতে পাড়া প্রতিবেশি ও নিকটাত্মীয়দের উপস্থিতিতে নির্দয় কুপিয়ে পিঠিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনার সময় খুনী ভায়রা ভাই বাদশার বাড়িতে তার পিতা আবদুল খালেক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম ছাড়াও সাহাবউদ্দিনের স্ত্রী মওফা বেগম, সোহেলের স্ত্রী তাহমিনা, খালেকের মেয়ে ফাতেমা, কুলসুমা, সমাজ সর্দ্দার স্থানীয় মোজাফ্ফর, হোছন আলী, মনজুর আলমের বাড়ির লোকজনও উপস্থিত ছিলেন বলে যেমন জনশ্রুতি ছিল তেমনি আলামত নষ্টে নিহতের রক্তমাখা শার্ট ও অন্যান্য উপকরণ গায়েবের কথাও শোনা যায়। পরে, এঘটনায় নিহতের ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করতে গেলে ঘাতক বাদশা ছাড়া আর কাউকে আসামী না করতে চাঁপ দেয়া হয়েছিল বলে জানান বাদী। এজাহার সূত্রে পুলিশ যথারীতি গত ১২/১০/২০১৬ইং তারিখে থানায় মোখতার হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা রুজু করে। যার মামলা নং-০৬/১৩৯-১১-১০-১৬ইং। মামলার জের ধরে পুলিশ ঘাতক ভায়রা বাদশাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাযতে প্রেরণ করে। পরে, রহস্যজনক ভাবে এখানে গিয়ে থমকে যায় তদন্ত কার্যক্রম। যা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে বাদী পক্ষে। তাদের মন্তব্য মোখতারকে জনাকীর্ন বসতিতে নিয়ে ডজানিধক লোকের উপস্থিতি সহযোগিতায় নির্মমভাবে পিঠিয়ে ও কুপিয়ে খুনের পর তার রক্তমাখা জামা বদলিয়ে নতুন শার্ট পরিয়ে দেয়া হয়। যতোগুলো লোকের উপস্থিতি সামনে তাকে হত্যা করা হয় তাদের কাউকে পুলিশ অদ্যাবধি আইনামলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য উদঘাটনের ব্যবস্থায় নেয়নি। সর্বোপরি এজাহারে বর্ণিত অন্যান্য আসামীরা তাদের নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন বসবাস করে দাপিয়ে বেড়ালেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা তাদের। এছাড়া, ঘাতক বাদশার পিতা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন পুলিশকে ম্যানেজ করেই তারা পথ চলায় কেউ তাদের কিছু করতে পারবেনা। সবমিলিয়ে চাঞ্চল্যকর মোখতার হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত তৎপরতা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা সন্দেহ ও প্রশ্ন। পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মোঃ মোস্তাফিজ ভুঁইয়া বাদী পক্ষের আনীত অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এ হত্যাকান্ডের তদন্ত যথাযথ আইনী ও কৌশলগত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করছে পুলিশ।