দিন শেষে ১২৮ রানের লিড পেল বাংলাদেশ

file-1-3.jpeg

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৮ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের আফসোস মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের উইকেটটি। ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান তুলেছে টাইগাররা।

ইমরুল কায়েস ৫৯ রান নিয়ে রোববার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।

এর আগে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৪৪ রানে অলআউট হয় সফরকারী ইংল্যান্ড। এতে ২৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ।

১৪৪ রানে ইংলিশদের ৮ উইকেট তুলে নেয়ার পর বাংলাদেশের লিড নেয়ার সম্ভাবনা জেগেছিল।

কিন্তু সে সম্ভাবনায় ঘি ঢেলে দেন লেজের সারির ব্যাটসম্যান ক্রিস ওকস ও আদিল রশিদ। নবম উইকেটে তারা ৯৯ রান তুলে ইংল্যান্ডকে দারুণভাবে খেলায় ফেরান।

এ জুটি ভাঙার এক রান বাদেই সফরকারীরা ২৪৪ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সফল মেহেদী হাসান মিরাজ।

চট্টগ্রাম টেস্টের পর ঢাকা টেস্টেও তিনি ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন ৮২ রান খরচায়। এছাড়া তাইজুল ইসলাম ৩টি ও সাকিব আল হাসান নিয়েছেন একটি উইকেট।

তামিম ইকবালের শতক এবং মুমিনুলের অর্ধশতকের পরেও শুক্রবার প্রথম দিনেই বাংলাদেশ ২২০ রানে গুটিয়ে তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করে।

অবশ্য শেষ বিকালে ইংল্যান্ড ইনিংসে ধ্বংসলীলার আভাস দিয়ে রাখেন টাইগার বোলাররা।

শনিবার শুরুতেই তা বাস্তবায়ন করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। মিরপুরে ঢাকা টেস্টের সকালটা নিজেদের করে নেন দু’জন।

৩ উইকেটে দলের ৫০ রান নিয়ে শুরু করেন জো রুট ও মঈন আলী। দলীয় ৬৪ রানে মঈন আলীকে (১০) ক্লিন বোল্ড করে ফেরান মিরাজ। এরপর দলীয় ৬৯ রানে বেন স্টোকসকে (০) মুমিনুলের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাইজুল।

সেখান থেকে জো রুট ও জনি বেয়ারস্টো দলের হাল ধরেন। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, এই জুটি উইকেটে থিঁতু হতে চলেছে। কিন্তু ৪৫ রানের এই জুটি আবারও ভাঙেন মিরাজ তার ঘূর্ণিতে।

দলীয় ১১৪ রানে বেয়ারস্টোকে এলবিডব্লিউ করে নিজের চতুর্থ শিকার তুলে নেন তিনি। আর দলীয় ১৪০ রানে অভিষিক্ত জাফর আনসারিকে (১৩) দ্বিতীয় স্লিপে শুভাগত হোমের তালুবন্দি করে মিরাজ পঞ্চম শিকার পূর্ণ করেন।

আর প্রান্ত আগলে খেলা জো রুটকে দলীয় ১৪৪ রানে সাজঘরে পাঠান তাইজুল ইসলাম। এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে তিনি করেন ৫৬ রান।

এরপর লেজের সারির ক্রিস ওকস ও আদিল রশিদ রীতিমত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৯৯ রানের এ জুটির কাছে টাইগার বোলারদের খুবই অসহায় মনে হয়েছে।

কিন্তু নতুন বল নিয়ে সেই মিরাজই নিজের ষষ্ঠ শিকার তুলে প্রতিরোধ গুড়িয়ে দেন। তার বলে লেগ স্লিপে শুভাগত হোমের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ওকস করেন ৪৬ রান। এক রান বাদেই তাইজুল ইসলামের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্টিফেন ফিন। ২৪ রানের লিড পেয়ে ইংল্যান্ড থামে ২৪৪-এ। অপরপান্তে আদিল রশিদ ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

২৪ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং ইমরুল কায়েস ঝড়ো শুরু করেন। তামিম ৪৭ বলে ৪০ রান করে আনসারীর বলে আউট হন। ওপেনিং জুটিতে ৬৫ রান তোলেন তারা। তামিমের পর দ্রুতই আউট হন মুমিনুল হক। তিনি মাত্র ১ রান করে বেন স্টোকসের বলে আউট হন।

তবে ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে ৮৬ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দিনের শেষ ওভারে এসে জাফর আনসারীর শিকার হন রিয়াদ। তিনি ৪৭ রান করেন।

শুক্রবার সিরিজের শেষ টেস্টে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ভালো শুরু করেও ২২০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৪৯ রানে শেষ ৯ উইকেট হারায় সফরকারীরা।