টেকনাফে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্থ : চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল

pollybiddut-22.jpg

ভৌতিক বিল প্রদানের অভিযোগ

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ |
প্রচন্ড গরম এবং গত ক’মাস যাবত তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে টেকনাফের জনজীবন। প্রচন্ড তাপদাহে গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড এবং সীমান্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ড মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। তেমনি তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিভিন্ন রোগের প্রকৌপ।

মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তীব্র লোডশেডিং ও প্রতিনিয়ত বিদ্যুাতের আশা যাওয়ার খেলা চলছে, তো চলছেই। স্থবির হয়ে পড়েছে টেকনাফ পর্যটন শহরের ব্যবসা বাণিজ্যের অগ্রগতিসহ সরকারী অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম। দিনে অন্তত ৫ থেকে ৭ বার এবং সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ শুরু হওয়া লোডশেডিংয়ের সময় বিদঘুটে অন্ধকারে নিসজ্জিত হয় গোটা সীমান্ত উপজেলা।

আর এ সুযোগকে পূঁজি হিসাবে ব্যবহার করছে সীমান্ত এলাকা ইয়াবা, চোরাচালানীরা। এ সময় মোটর সাইকেল অবাধ বিচরণ লক্ষ করা যায়। সেই সাথে শুরু হয় প্রচন্ড গরম ও তীবৃ মশার যন্ত্রণা। এতে নাকাল সীমান্ত উপজেলা বাসী।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে লেখাপড়ার প্রতি উদাসিন হচ্ছে। তীব্র লোডশেডিং এবং চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের অভাবে উপজেলাবাসী বিভিন্ন বাসা-বাড়ীতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফ্রিজে রাখা মাছ তরকারিসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী এবং অকেজো হয়ে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ পৌরসভা এবং প্রশাসন (ভিআইপি) এলাকায় গড়ে ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ পেলেও গ্রামাঞ্চলে পাচ্ছে মাত্র ৫/৬ ঘন্টা।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহকের বাইরে রয়েছে অনেক অবৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহক। যাদের কাছ থেকে উক্ত অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী চুক্তিভিক্তিক মাস শেষে মাসোয়ারা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। এদের বিদ্যুৎ বিলগুলো বৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহকের উপর নীরবে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোন কোন গ্রাহকের উপর দেয়া হচ্ছে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল। এছাড়া রয়েছে ব্যাটারিচালিত অসংখ্যা ত্রিচক্র যান। যে কারণে তীব্রতর হয়ে উঠেছে উপজেলাবাসীর ধার্য্যকৃত বিদ্যুৎ সংকট।

আরো জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের একশ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ন কর্মচারীর যোগসাজশে পৌর শহর প্রতি ইউনিয়ন বাজারে জেনারেটর ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে অনেক সময় ইচ্ছে করেই রাতের বেলায় লোডশেডিং ঘটাচ্ছে এবং জেনারেটার ব্যবসায়ীরা জেনারেটার চালু করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।আবার জেনারেটরের লাইন বলে সরাসরি পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে হাট বাজারে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের কাছে সাপ্লাােই দেওয়া হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ।

আবার অতিরিক্ত ও ভৌতিক বিলের অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, গড়ে যেখানে বিদ্যুৎ বিল আসতো ৪ থেকে ৫শত টাকা এবং বর্তমানে আসছে ১ হাজার থেকে ১৪ শত টাকা। নিয়মিত লোডশেডিং থাকার পর ও কিভাবে এতো বিল আসে তাহা নিয়ে সচেতন গ্রাহকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। মিটার না দেখে রিডারম্যান আন্দাজ অনুমানে বিল তৈরী করে এবং ভৌতিক বিল গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

টেকনাফ পৌর এলাকার পুরাতন পল্লান পাড়ার একজন গ্রাহক জানায়, তার মিটারে পূর্বে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসতো ৪/৫ শত টাকা এখন ৮/৯ শত টাকার বেশী। যার হিসাব নং- ৪৩৮/২৭৪৬

টেকনাফ উপজেলা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শফিক মিয়া বলেন, লোডশেডিং এর মাত্রা অসহনীয়। দৈনিক ৪/৫ ঘন্টা মাত্র বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে নব নিযুক্ত ডিজিএম মোঃ বাহার উদ্দিন জানান- জাতীয় গ্রীট লাইনে কাজ চলছে এবং আগামী ২০১৮ সালের জুন মাসের এই কাজ শেষ হবে। তখন লোডশেডিং থাকবে না। বিদ্যুৎএর চাহিদা সাড়ে ১২ মেগাওয়ার্ড এবং বর্তমানে সরবারহ সাড়ে ৩ মেগাওয়ার্ড মাত্র। ২৮ হাজার গ্রাহকের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবারহ করা হচ্ছে।