টেকনাফে ইয়াবাসক্ত স্বামীর দা’য়ের কুপে স্ত্রী নিহত, ঘাতক স্বামী আটক

6668889999.jpg

টেকনাফে নিহত ২ সন্তানের জননী রোকেয়া ও ঘাতক স্বামী রুবেল

টেকনাফ টুডে ডটকম |
টেকনাফে ইয়াবাসক্ত স্বামীর দা’য়ের কুপে রোকেয়া আক্তার (২২) নামে দুই সন্তানের জননী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় জনতা পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক স্বামী মোঃ রুবেল (২৮) কে আটক করে গণধোলাই দিয়ে থানায় সোপর্দ্য করেছে। সে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার কোশালডেঙ্গি গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে।
২৯ অক্টোবর শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজলার সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধু টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকার বদিউল আলমের মেয়ে। দায়ের কুপে তার গলা কেটে যায় ও বাম হাতের কজ্বি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকান্ড এমনটি মনে করছেন পুলিশ।
নিহত রোকেয়ার বড় ভাই আইয়াজ ও স্থানীয় মৌলভী সৈয়দ কাসিম জানান রোকেয়ার স্বামী মাদকাসক্ত ছিল সে ইয়াবা সেবন করতো।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারী কক্সবাজার নোটারী পাবলিক কার্যালয়ের এফিডেভিট মূলে বিয়ে হয়। এরপর রাজারছড়া এলাকায় শ্বশুর বদিউল আলমের বাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতো রুবেল। বছর দেড়েক আগে এ দম্পতি দিনাজপুর চলে যায়। গত রমজান মাসে রোকেয়া আক্তার সন্তান জন্ম দানের জন্য টেকনাফে পিতার বাড়ীতে আসে। গত ২০ দিন আগে তার সংসারে একটি কন্যা সন্তান আসে। এ খবর পেয়ে ৪/৫ দিন আগে স্বামী রুবেল দিনাজপুর থেকে শ্বশুর বাড়ীতে আসে। এরপর শনিবার এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় বড় সন্তান সিফাত (৩) কে নিয়ে নানী পাশের বাড়ীতে যায়। এ সুযোগে স্বামী দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে স্ত্রী রোকেয়াকে। এ সময় ওই কক্ষে সদ্য জন্ম নেয়া কন্যা সন্তানদে দোলনাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলো। এ দিকে নানী শিশু সিফাতকে মায়ের কাছে দিতে এসে দেখতে পায় মেয়ের স্বামী রুবেল রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ী থেকে বের হয়ে চলে যাচ্ছে। এ সময় শ্বাশুড়ীর চিৎকারে লোকজন ধরার চেষ্টা করার আগেই সে পালিয়ে যায়। পরে টেকনাফ পৌর এলাকার শাপলা চত্বর থেকে জনতার সহায়তায় পুলিশ রুবেলকে আটক করে থানায় সোপর্দ্য করেছে।
এদিকে খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই কাঞ্চন কান্তি দাস ঘটনাস্থলে থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ আবদুল মজিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আটক ঘাতক স্বামী রুবেলকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।