সন্দেশের লোভ দেখিয়ে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষন : ধর্ষক ভয়ংকর জেঠা সাইফুল

rape_28766_1477489801.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ধর্ষণের শিকার পাঁচ বছরের শিশুটির চিকিৎসায় ৯ সদস্যের চিকিৎসক বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারের সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার দুপুরে তিনি জানান, ধর্ষণের শিকার শিশুটির যৌনাঙ্গ খুবই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। আজ সকালে তাকে অপারেশন করার জন্য ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু যৌনাঙ্গ সংক্রমণ থাকায় অপারেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।

ওসিসি সমন্বয়কারী আরও জানান, শিশুটির অবস্থা গুরুতর ও জটিল। তার হাত-পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, গাল ও গলায় কামড়ের চিহ্ন এবং শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়ার ক্ষত রয়েছে।

এ অবস্থায় তার চিকিৎসায় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিলকিস বেগম।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়।

ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে উদ্ধার করে গত ১৯ অক্টোবর প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে শিশুটিকে পাঠানো হয়।

ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ায় জেনারেল মো. মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির অবস্থা গুরুতর। তবে জীবনহানির আশংকা নেই।

তিনি বলেন, ওসিসিতে ভর্তি হবার পর থেকে আস্তে আস্তে তার উন্নতি হচ্ছে। তার চিকিৎসা ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের বিষয়টিও নিশ্চিত করে ঢামেক পরিচালক।

১৮ অক্টোবর শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন অনেক খুঁজেও ওইদিন তার সন্ধান পায়নি। কিন্তু পরদিন ভোরে শিশুটিকে তার নিজ বাড়ির কাছে ফসলের খেতে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির পরিবারের এক সদস্য জানায়, তাদের পরিচিত এক ব্যক্তি শিশুটিকে বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরদিন তাকে বাড়ির কাছে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

এদিকে এ ঘটনায় শিশুটির বাবা গত ২০ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাইফুল ইসলাম ও আফজাল হোসেন কবিরাজ নামে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এরপর ২৪ অক্টোবর রাতে দিনাজপুর শহর থেকে আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

পার্বতীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম জানান, ধর্ষক সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর ধর্ষক কবিরাজকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শিশুটির চাচা জানান, আমার অবুঝ ভাতিজিকে যারা নির্যাতন করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
saiful_28794_1477491840-1
ধর্ষক ভয়ংকর জেঠা সাইফুল
মাত্র পাঁচ বছরের ফুটফুটে শিশু। এখনও ভাল-মন্দ বোঝার বয়স হয়নি তার। দিনাজপুরের পার্বতীপুর জমিরহাট তকেয়াপাড়া গ্রামের ওই শিশুটি জেঠা বলে ডাকতো সাইফুলকে। শিশুটির বাবাও সাইফুলকে বড় ভাই হিসেবে সম্মান করতো। কিন্তু এই সাইফুল যে এতো ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ।

সহজ-সরল অবুঝ এই শিশুকে চকলেট ও সন্দেশ দেয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করে সাইফুল। শিশুটি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

সবাই যখন বাচ্চাটিকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন তখনও সাইফুল শিশুটির পরিবারের সদস্যদের অভয় দিয়েছে। দিয়েছে নানা পরামর্শও। কেউ বুঝতে পারেনি সাইফুলের হাতেই সর্বনাশ হয়েছে শিশুটির।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে বসে শিশুটির বাবা পিকআপভ্যান চালক জানান, ১৮ অক্টোবর বাড়ির পাশে খেলা করছিল তার একমাত্র কন্যাশিশুটি। দুপুর ১২টার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মিলছিল না। রাতে মাইকিং করা হয়। মসজিদে ঘোষণা দেয়া হয়। আশপাশের পুকুরেও চলে সন্ধান। পরদিন ভোরে বাড়ির পাশে হলুদক্ষেতে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায়।

তিনি জানান, ঘটনার দিন বিকাল চারটার দিকে সাইফুল এসে বলে- তোমার বাচ্চাকে খোঁজার কোনো দরকার নেই। তোমরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও। বাচ্চাকে পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, মেয়েটি সাইফুলকে জ্যেঠা বলে ডাকতো। সবাই তাকে আদর করতো। ভাবতেও পারিনি যে, এই শিশুটি সাইফুলের পাশবিকতার শিকার হবে। ঘটনার পরদিন উদ্ধারের পর ভেবেছিলাম, ঠাণ্ডাজনিত কারণে হয়তো শিশুটি অচেতন হয়ে গেছে। পরে হাত-পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, গাল ও গলায় কামড়ের চিহ্ন এবং শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়ার ক্ষত অন্যকিছু ধারণা হয়। তারপরও সাইফুলকে সন্দেহ হয়নি।

শিশুটির প্রতিবেশী ও পিকআপ ভ্যানের মালিক জানান, আমি ভেবেছিলাম- সাইফুল যেহেতু মদ খায়, জুয়া খেলে তাই হয়তো কিছু টাকার জন্যে ওই বাচ্চাটিকে সরিয়ে রাখতে পারে। সেজন্যে হয়তো অভয় দিচ্ছে। কিন্তু সে কোনো টাকা দাবি করেনি। তাকে ভয় দেখাতে পাশের গ্রাম থেকে রাতে কবিরাজ নিয়ে আসি। কবিরাজ আনার পর সাইফুল বাড়িতে এসে সুকৌশলে মেয়েটির বাবাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় দেড় কিলোমিটার দূরে আফজাল কবিরাজের কাছে। ওই সময় সাইফুল মেয়েটির বাবাকে বলে, আমি তোমাকে কার কাছে নিয়ে যাচ্ছি? সেখানে কী কথা হলো- তা কাউকে বলবে না। তুমি তোমার মেয়ে পেয়ে যাবে।

পরে গভীর রাতে সাইফুল এবং মেয়েটির বাবা বাড়িতে আসে। কিন্তু তারা কোনো কথা বলে না। শিশুটির বাবা ও সাইফুল কোথায় গিয়েছিল, কী কথা হয়েছিল তা জানতে ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে শিশুটির বাবাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাই। ওই সময় একটি খবর আসে- আট কিলোমিটার দূরে অন্য একটি গ্রামে মেয়েটিকে পাওয়া গেছে। তাই মেয়েটির বাবার সঙ্গে আর কোনো কথা না বলেই মোটসাইকেলযোগে ওই গ্রামে চলে যাই। কিন্তু তাকে না পেয়ে ফেরত আসি।

পরে মেয়েটির বাবার কাছে আবার জানতে চাই, সাইফুল তাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল, কী কথা হয়েছে? মেয়েটির বাবা জানায়, সাইফুল তাকে আফজাল কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। কবিরাজ বলেছে, তুমি মন্দিরে চাঁদা দেওনি। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নিরামিষ খেয়েছ। যাও, মাজারে গিয়ে ১০১ টাকা দিয়ে আসো, তোমার মেয়েকে পেয়ে যাবে।

পিকআপ ভ্যানের মালিক জানান, বাচ্চাটিকে পাওয়ার পর সাইফুল আমাদের বলে- তাকে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর দরকার নেই। একটু ঝাড়ফুঁক দিলেই ভাল হয়ে যাবে। এরপরই সাইফুলকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়। ২০ অক্টোবর সাইফুল ও আফজাল কবিরাজের নামে থানায় মামলা করা হয়।