চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত, দরজাবন্ধ রেখে কারচুপির অভিযোগ

unnamed-2-4.jpg

তদন্তের দ্বিতীয় দিন তদন্তস্থলে উপস্থিত অন্তত চার শতাধিক রোগীর কাছ থেকে কোন ধরণের বক্তব্য দিতে দেয়নি ।

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া |
কক্সবাজারের চকরিয়ায় থেকে সদ্য বদলী হওয়া বদলি হওয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ আলমের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের ১২বছরের লাগামহীন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের তদন্তে নেমেছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতিপূর্বে ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ কার্যালয়ে দুদক মহাপরিচালকের কাছে ভুক্তভোগীদের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার ও সোমবার দুইদিন চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে এসে অভিযোগের তদন্ত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিচালক ফারজানা ইয়াছমিনের নেতৃত্বে একটি দল।
দুদক তদন্তদলটি মহাপরিচালকের নির্দেশে চকরিয়ায় এসে উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দরজা বাইর থেকে বন্ধ রেখে ভেতরে গোপনে তদন্ত কার্যক্রম চালানোর কারনে তা নিয়ে জনগনে নানা ধরণের গুঞ্জন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোরশেদ আলমের অন্যতম সহযোগি অফিস সহকারী বাপ্পী শর্মা বর্তমান উপজেলা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্রের নির্দেশে তৈরী করা স্বাক্ষীদের তালিকা অনুযায়ী নিজেদের সুবিধাভোগী লোকজনের কাছ থেকে দায়সারা গোচের স্বাক্ষ্য নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। এভাবে লুকোচুরির তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের বাদিসহ সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, যোগদানের পর প্রায় ১২বছর ধরে বহাল তবিয়তে থেকে চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ আলম জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম দূর্নীতিতে। গত ২বছর আগে তিনি অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ইউনিয়নের পরিদর্শক-পরিদর্শিকাসহ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নানাভাবে লাখ লাখ টাকা আদায় করেন। নামে বেনামে ভুঁয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সরকারি বরাদ্ধের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাত করেন। তাঁর লাগামহীন এসব অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে ঢাকাস্থ দুদক কার্যালয়ে মহাপরিচালকের লিখিত অভিযোগ করেন সদ্য অবসরে যাওয়া চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিদর্শিকা শাহেনা বেগম, বর্তমানে কর্মরত তসলিমা খানম মিনু, জাহানারা বেগমসহ চারজন। তাদের দায়ের করা ওই লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৩অক্টোবর (সোমবার) তদন্ত কার্যক্রমে আসেন দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিচালক ফারজানা ইয়াছমিন।
বাদী পক্ষের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্রের নির্দেশনা মতে অফিস সহকারি বাপ্পী শর্মা সহযোগি দিলরুবা খানম রুবি, হাসিনা মোস্তাফা, এফপিআই ইজ্জতুল আনোয়ার রুমেল, রুখসাইয়া পারভীন, ফাতেমা বেগম, সাদিকা ইয়াছমিন ও ছালেহা বেগম নানাভাবে তদন্তদলকে প্রভাবিত করেছে। তদন্তকালে তাঁরা অভিযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোরশেদ আলমকে বাঁচানোর জন্য নিজেদের তৈরী করা তালিকা মতে সুবিধাভোগী লোকজনের কাছ থেকে সাফাই স্বাক্ষী নিয়ে দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। এমনকি তদন্ত কর্মকর্তা বিবাদি পক্ষকে স্বাক্ষী উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেও অভিযোগটির বাদি পক্ষকে এব্যাপারে কোন ধরণের সহযোগিতা করেনি। তদন্তের দ্বিতীয় দিন অভিযোগের বাদি পক্ষ থেকে বক্তব্য গ্রহন করলেও তদন্তস্থলে উপস্থিত অন্তত চার শতাধিক রোগীর কাছ থেকে কোন ধরণের বক্তব্য দিতে দেয়নি অফিস সহকারি বাপ্পী শর্মা। ওইসময় কয়েকজন বক্তব্য দিতে চেষ্টা করলেও তাদেরকে তদন্তস্থল থেকে জোরপুর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগটির বাদিরা দাবি করেছেন, তদন্ত কার্যক্রম চলাচলে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে ইমপ্লাট বাবত সরকারি বরাদ্দে প্রাপ্ত টাকা না দেয়ার অভিযোগ তুলেন এক মহিলা রোগী। ওই সময় তাৎক্ষনিক অফিস সহকারি বাপ্পী শর্মা ওই রোগীকে ৭০ টাকা জোরপুর্বক হাতে গুজে দেন তদন্ত কর্মকর্তার সামনে। যদিও ওই রোগী নিয়ম অনুযারী তিনবারের ইমপ্লাট বাবত বরাদ্ধ পান ২১০ টাকা। অভিযোগ পাওয়া গেছে, অভিযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোরশেদ আলম দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এ ধরণের প্রায় তিন হাজার রোগীকে ইমপ্লাট বাবত বরাদ্দের টাকা না দিয়ে আত্মসাত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুদক কর্মকর্তাদের এ ধরণের কারচুপির কারনে তদন্ত কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এব্যাপারে অভিযোগের বাদিসহ সচেতন মহল দুদকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দুদকের তদন্ত ও সদ্য বদলী হওয়া কর্মকর্তাকে বাচানোর চেষ্টা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্র কোন ধরণের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। #