পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় নিহত বেড়ে ৫৯

quetta-attack-police-mobile_28633_1477363141.jpg

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটায় পুলিশ প্রশিক্ষণ কলেজে জঙ্গি হামলায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে। নিহতদের বেশিরভাগই ক্যাডেট।

সোমবার রাতের এ হামলায় অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার পর সেনাবাহিনী এবং ফ্রন্টিয়ার ক্রপস বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভবনে জিম্মি ৭০০ ক্যাডেটকে জীবিত উদ্ধার করেছে। খবর বিবিসি, ডন অনলাইনের।

ফ্রন্টিয়ার ক্রপসের (এফসি) আইজি মেজর জেনারেল শের আফগান এক ব্রিফিংয়ে অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, এখনই হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান বলা যাবে না। তবে ২০ জনের অধিক নিহত এবং অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছে।

তিনি জানান, হামলাকারী তিনজন ছিল। এদের মধ্যে দু’জন আত্মঘাতী হামলায় নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছে। একজন অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে।

হামলাকারীদের আফগানিস্তানের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলেও জানান শের আফগান।

বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মীর সরফরাজ আহমেদ বাগতি বলেছেন, হামলায় ৫৯ জন নিহত হয়েছে। ভবন থেকে জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান সফল হয়েছে।

হামলার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্যে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিন জঙ্গি পুলিশ ট্রেনিং কলেজের প্রধান ফটক দিয়ে অতর্কিত ঢুকে পড়ে বেশ কিছু প্রশিক্ষণার্থীকে জিম্মি করে। তাদের হাতে একে-৪৭ রাইফেল এবং গ্রেনেড দেখা যায়।

এ সময় তারা নিরাপত্তা চৌকি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের গুলি বিনিময়ও হয়।

পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিরা কলেজটির পাঁচটি এলাকা থেকে গুলি বিনিময় করে।

পরে সেনাবাহিনীর দু’টি হেলিকপ্টার জিম্মিদের উদ্ধারে কাজ করে।

তবে এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা। প্রশিক্ষণ কলেজটি কোয়েটার শারিয়াব সড়কে অবস্থিত। ২০০৬ এবং ২০০৮ সালেও এখানে হামলা হয়েছিল।

এছাড়া গত অগাস্টে কোয়েটার প্রধান হাসপাতালে এক হামলায় ৮৮ জন নিহত হয়।