কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর কমান্ডার সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন মাহমুদ!

salauddin-mahmud.jpg

সালাউদ্দিন মাহমুদ

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া |
কক্সবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছে এদাঞ্চলে রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ জাতীয় পাটি জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর কমান্ডার এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ। দীর্ঘ ২৮বছর পর আবারো জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে চকরিয়া পেকুয়ার রাজনীতির মাঠে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ জনগন ও রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষন। জাতীয় পাটি ক্ষমতায় থাকাকালে বরণ্য এ রাজনীতিবিদ সফল কর্মের মাধ্যমে চকরিয়া-পেকুয়া তথা কক্সবাজার জেলাকে উন্নয়নের মাধ্যমে ঢেলে সাজিয়েছেন। যার কারনে জনপ্রিয়তার বিচারে এখনো তিনি জনগনের মাঝে নিজের অবস্থান অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্টিত হচ্ছে সারাদেশের সাথে কক্সবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচন। অনুষ্টিত এ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন এমন আভাষ পাওয়া যাচ্ছে জেপির নেতাকর্মী ও তার শুভানুধায়ী মহলের কাছ থেকে। তবে নির্বাচনী বৈতরণীতে সুবিধা পেতে তিনি মহাজোট থেকে একক প্রার্থী হতে জোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
স্বাধীনতার পর কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা অর্থনৈতিক ও আত্মসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানে অপার সম্ভাবনার জনপদে পরিণত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীতে স্থায়ীভাবে নির্মিত হয়েছে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি নান্দনিক রাবার ড্যাম। প্রতিবছর শুস্ক মৌসুমে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় নদীর দুই পয়েন্টে অস্থায়ী ক্রঁসবাধ নির্মাণের মাধ্যমে দুই উপজেলার কৃষকরা মিঠাপানি আটকিয়ে সেচ সুবিধা দিতেন জমিতে। এখন সময়ের ব্যবধানে পাল্টে গেছে সেই চিত্র। সফল উদ্যোগের কারনে দুই উপজেলার প্রায় ৬০হাজার একর জমিতে প্রতিবছর নিশ্চিতে হচ্ছে ইরি-বোরো ও রবি সষ্যের চাষাবাদ। এভাবে চাষাবাদ থেকে শুরু করে নানা ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সচল হয়েছে দুই উপজেলার প্রায় ৬লাখ মানুষের জীবনমান চিত্র। মানুষের জীবন বদলে যাওয়ার মতো পরিবর্তন এসেছে দুই উপজেলার রাজনীতিতে। সম্ভাবনার জনপদ চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলের সর্বজনের পরিচিত নেতা জাতীয় পাটির আমলে নির্বাচিত এমপি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। বর্তমানে তিনি জাতীয় পাটি (জেপি-মঞ্জু)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য।
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ একজন বরণ্য রাজনীতিবিদ তেমনি সুবক্তাও বটে। এ কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্বাধীনতার পর তাকে সরকারীভাবে স্কলারশীপ দিয়ে বুলগেরিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার (চকরিয়া-পেকুয়া) প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়রম্যান। সালাহ উদ্দিন মাহমুদের জন্ম চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ডেপুটি বাড়ির সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে। তিনি জন্ম গ্রহন করেন ১৯৫০সালের ২৫ শে নভেম্বর। তাহার পিতার নাম মরহুম এ.এম সুলতান মাহমুদ বি.এ, মাতার নাম মরহুমা আছিয়া বেগম, দাদার নাম মরহুম গোলাম কাদের এম.এ (ডবল) ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট, নানার নাম. মরহুম আলহাজ্ব ফররুখ আহমদ এম.এ বি.এল এডভোকেট।
তার শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়েছে গ্রামের বাড়ি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ঘাটফরহাদবেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল, সরকারি মুসলিম হাইস্কুল, কুমিল্লা মতলবগঞ্জ জেবি হাইস্কুল, চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ, যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। ওইসময় তিনি নির্যাতন ও কারাভোগ করেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন তিনি । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কক্সবাজার মহকুমা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে বুলগেরিয়া সরকারের স্কলারশীপ নিয়ে সুফিয়া সোস্যাল সায়েন্স ও পাবলিক এডমিনিষ্ট্রেশন একাডেমী থেকে প্রশাসনের উপর উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৮৫ সালে চকরিয়া উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ, ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদের এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে উপমন্ত্রীর পদমর্যাদায় কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রথম জেলা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সালাহউদ্দিন মাহমুদের আমলে অভুতপুর্ব উন্নয়ন ও প্রতিষ্টা হয়েছে চকরিয়া নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চকরিয়া কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীতকরণ, বাটাখালী সেতু নির্মাণ, পেকুয়া কাটাফাড়ি সেতু নির্মাণ, বাগগুজরা সালাহ উদ্দিন ব্রীজসহ বরইতলী মগনামা সড়ক, বদরখালী সড়কের উন্নয়ন, চিংড়ি জমির সঠিক বরাদ্দের মাধ্যমে চাষের উন্নয়ন, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের উন্নয়নসহ গ্রামীণ বিভিন্ন সড়ক, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ, বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন।
তিনি গ্রামের এলাকা বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ উন্নতি সাধিত হয়। তিনি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও ভবনের জমি বিদ্যালয়ের নামে রেজিষ্ট্রি করে নিতে ব্যবস্থা গ্রহন করেছিলেন। সংসার জীবনে তিনি স্ত্রী ছেনুয়ারা পারভীন ও তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শহুরে জীবনের আরাম আয়েশ ত্যাগ করে ৯০ সাল থেকে গ্রামের বাড়ি বরইতলী ইউনিয়নে জনগনের সাথে কাটাচ্ছেন বরণ্য এ রাজনীতিবিদ । #