সাব্বির পারবেন তো ?

sabbir1_28511_1477227792.jpg

স্পোর্টস ডেস্ক |
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম টেস্ট ম্যাচের খেলা চলছে। রোববার চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হয়েছে। জয় থেকে মাত্র ৩৩ রান দূরে আছে টাইগাররা।

হাতে রয়েছে ২টি উইকেট। তবে বাংলাদেশের জয়ের আশা এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন ৫৯ রানে অপরাজিত থাকা সাব্বির রহমান। অন্যপ্রান্তে তাকে সঙ্গ দেবেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত আছেন। এছাড়া ব্যাট করার সুযোগ পাবেন শফিউল ইসলাম।

তবে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে একজনই আছেন। আর তিনি হলেন সাব্বির রহমান।

চতুর্থ দিনের খেলা ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলিয়েছে। কখনও জয়টা বাংলাদেশের দিকে আবার কখনও ইংল্যান্ডের দিকে। আবার জয়-পরাজয় দুই দলের দিকে সমানভাবেও থাকতে দেখা গেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে ৮ বার টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। জয় তো দূরের কথা একটিতে ড্রও করতে পারেনি। অধিকাংশ পরাজয়ও ইনিংস ব্যবধানে। তবে চট্টগ্রাম টেস্টে দারুণ খেলেছে টাইগাররা।

ইংল্যান্ডকে দুই ইনিংসেই অলআউট করেছে বাংলাদেশের বোলাররা।

রোববার সকালে যখন ২৮৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ তখনও সবাই টাইগারদের জয়ের অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছিলেন। কেননা বাংলাদেশের ওপেনার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও রানের দেখা পাচ্ছেন। তাছাড়া নিজেদের মাঠে খেলা।

তবে প্রথম ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করা তামিম ইকবাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ হলেন। ব্যক্তিগত ৯ রানে আউট হন এ ওপেনার। তবে তামিম আউট হলেও তো সমস্যা নেই। সবদিনই তো সবার ব্যাট কথা বলবে না।

আরও অনেকেই তো ব্যাটসম্যান আছেন। তামিম ফিরে গেলে প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়া মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন ইমরুল কায়েস। দারুণ খেলতে থাকা কায়েস ৪৩ রানে ফিরে যান। এরপর ৬ষ্ঠ উইকেট জুটির আগে আর কোনো বড় জুটি হয়নি টাইগারদের।

মুমিনুল শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন। তিনিও উইকেটে সেট হয়ে ২৭ রানে আউট হন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। সাকিব আল হাসান উইকেটে সেট হয়েও ফিরে যান। ৮১ থেকে ১৪০- এই ৫৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা।

তবে ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান মুশফিকুর রহিম এবং সাব্বির রহমান। সাব্বির মারমুখী হয়ে খেললেও নিজেকে যথেষ্ঠ সংযত রেখে ব্যাট করছিলেন মুশফিক। তাদের জুটিতে আসে ৮৭ রান। তবে মুশফিক ফিরে গেলে ছন্দপতন হয় বাংলাদেশের।

জয় থেকে যখন মাত্র ৫৯ রান দূরে বাংলাদেশ তখন আউট হন ক্যাপ্টেন। এরপরই জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা টাইগারদের মনে নেমে এসেছে আতংক। মুশফিক যখন আউট হন তখন বাংলাদেশের রান ২২৭। ২২৭ থেকে ২৩৮ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট পড়ে যায় স্বাগতিকদের।

এই ছন্দপতনে জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে টাইগারদের। তবে বাংলাদেশের এখনও আশার আলো হয়ে জ্বল জ্বল করছেন সাব্বির। সাব্বির কি পারবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশকে প্রথম জয় উপহার দিতে?

হাতে রয়েছে এখনও পুরো একটা দিন। তবে সাব্বিরকে তার সতীর্থরা সঙ্গ দিতে পারবেন কি না সেটা দেখতে আরও অপেক্ষা করতে হবে টাইগার ভক্তদের।

এদিকে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে আগে দুই শতাধিক রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড বাংলাদেশের নেই। অতীতে এমন রান তিনবার চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে প্রত্যেকবারই হেরেছে টাইগাররা।

চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ ২১৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের, ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট জর্জে।

তবে একটা আশার আলো ঠিকই রয়েছে। কোনো দলকে দু’বার অলআউট করে এখন পর্যন্ত টেস্টে হারেনি বাংলাদেশ।

এখন দেখার, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৬ রান তাড়া করে মুশফিকরা সেই রেকর্ড নিজেদের করে নিতে পারেন কি না।