টেকনাফে লাইসেন্স বিহীন অদক্ষ ও কম বয়সি চালক দিয়ে চলছে যানবাহন

Road-Accident.jpg

জিয়াবুল হক, টেকনাফ |
টেকনাফ উপজেলায় অদক্ষ ও কম বয়সি চালক ও যাত্রীদের অসচেতনতায় সড়ক দূর্ঘটনার মূল কারন। অদক্ষ ও কম বয়সি চালকরা অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টেকনাফের বিভিন্ন সড়কে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে চাঁদের গাড়ী (জীপ), মাইক্রো হায়েছ, সিএনজি-মাহিন্দ্রা, টমটম ও অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন প্রকার যাত্রী বহনকারী গাড়ী। এই গাড়ী থেকে মাসিক মাসোহারা নিচ্ছে টেকনাফে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু দেশের আনাচে-কানাছে এবং সর্বস্তরে যখন “নিরাপদ সড়ক চাই” রব উঠেছে তখন অপরদিকে গাড়ীর মালিকগণ অনিরাপদ বা অদক্ষ ও কম বয়সি চালকদের হাতে গাড়ী তুলে দিচ্ছে। ফলে সড়ক দূর্ঘটনার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দূর্ঘটনার ফলে মৃত্যুর খবর খবরের কাগজে শোভা পাচ্ছে। তার মূল কারণ কম বয়সি ও অদক্ষ চালক এবং যাত্রীদের অসচেতনতা।
সুত্রে জানা যায়, রেজিষ্ট্রেশন, রুট পারমিট, ফিটনেস বিহীন, অদক্ষ ও কম বয়সি চালক দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে।
বড়-ছোট সড়ক গুলোতে আশংকাজনক হারে দূর্ঘটনা বেড়ে চলার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত লংঘন করছে ট্রাফিক আইন অদক্ষ ও কম বয়সি চালকেরা। এদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা মাসোহারা নিচ্ছে টেকনাফে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ।
সুত্রে আরো জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভায ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় এসব পরিবহন গুলোতে বিভিন্ন প্রকার নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মনিটরিং না থাকার কারণে এসমস্যা দিন দিন বিরাট আকার ধারণ করছে। চালকরা সামান্য ভাড়ায় যাত্রী উঠানামার জন্য নিয়মিত প্রতিযোগিতা লিপ্ত থাকে। ফলে ওভার টেক, রাস্তার মাঝখানে অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় গাড়ী দাঁড় করিয়ে যাত্রী উটানামা, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী বহনসহ নানান কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ভয়াভহ যানজট ও সড়ক দূর্ঘটনা। কিন্তু দেশের চলাচলের রাস্তা গুলোর মধ্যে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বেশির ভাগ চালকরা অদক্ষ, কম বয়সি, অনভিজ্ঞ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এরা ভূয়া লাইসেন্স, রুট পারমিট সংগ্রহ করে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চালিয়ে যাচ্ছে। তাই তারা জানে না যানবাহন চালানোর নিয়মনীতি। এমনকি যানবাহনে চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এ নিয়মের ধার ধারে না এসব অদক্ষরা, অনভিজ্ঞ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকের হাত ধরে উঠে আসে উত্তরসূরীরা। প্রথমে তারা বিভিন্ন যানবাহনের সহকারী হিসেবে কাজ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়, গাড়ী ধোয়া-মোচার কাজ করে। সুযোগ হলে গাড়ী ষ্টার্ট দিয়ে দূর্ঘটনা ঘটায়। কোন রকম গাড়ী চালাতে পারলে পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে বিআরটিসির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূয়া লাইসেন্স সংগ্রহ করে এসব অনিয়মের কারণে প্রতিদিন কোন না কোন সময় পথচারী ও যাত্রীরা এসব চালকদের দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করে অভিজ্ঞ লাইসেন্সধারী জানান, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো হচ্ছে অদক্ষ, অনভিজ্ঞ, কম বয়সি চালক দিয়ে। স্থানীয় প্রশাসনের কোন ধরনের মনিটরিং না থাকায় এসমস্যা দিন দিন বিরাট আকার ধারণ করছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, টেকনাফ উপজেলার অধিংকাংশ মিনি বাস, মাইক্রো-হাইয়েছ, ডা¤পার, জিপ-চাঁন্দের গাড়ী, টে¤েপা-ট্যাক্সি, সিএন্ডজি, মোটর সাইকেল, টমটম ও অটোরিক্সা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অভিজ্ঞতা নেই। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মুখে তা হয়ে উঠে না। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।