চকরিয়ায় অস্ত্রের মুখে যুবলীগ সভাপতি অপহরণ ১৮ ঘন্টাপর জিন্মিদশা থেকে আহতবস্থায় উদ্ধার

unnamed-5-2.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া |
চকরিয়ায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্টান থেকে অস্ত্রের মুখে হামিদুর রশিদ নামের এক যুবলীগ নেতাকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে অপহরণের প্রায় ১৮ঘন্টা পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিবার সদস্যরা শনিবার বিকেল তিনটার দিকে ওই যুবলীগ নেতাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চিংড়িজোন চরণদ্বীপ কেরাইনঘ্যাঘোনা এলাকা থেকে উদ্ধার করেন। শুক্রবার রাত দশটার দিকে অপহরণের শিকার হন ওই যুবলীগ নেতা। অপহৃত যুবলীগ নেতা হামিদ পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বিনামারা ভাঙ্গারমুখ এলাকার মৃত আবদুল গনি মেম্বারের ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর ভাই কাউছার উদ্দিন বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
অপহৃত যুবলীগ নেতার ছোট ভাই কাউছার উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাত দশটার দিকে ৭-৮জনের অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত অকর্তিক হানা দিয়ে উপজেলার ফাসিয়াখালীর হাসেরদীঘি ষ্টেশনস্থ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্রের মুখে একটি গাড়িতে তুলে অপরহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর খোজাখুজির এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার রাতে ফোন আসে তাকে মুক্ত করতে হলে ৩লাখ টাকা দিতে হবে।
কাউছার উদ্দিন জানান, ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানানো হলে এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলে পুলিশ। এরই মধ্যে অভিযোগ লেখার সময় শনিবার দুপুর ২টার দিকে একটি ফোন আসে অপহৃত যুবলীগ নেতা হামিদের। ওইসময় ফোনে হামিদ তাকে আটকে রাখার ঘটনাস্থলের স্থান জানান। তাৎক্ষনিক পরিবার সদস্যরা উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চিংড়িজোন চরণদ্বীপ কেরাইনঘ্যাঘোনা এলাকায় পৌঁছে স্থানীয় জনগনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপহৃত যুবলীগ নেতা হামিদুর রশিদ জানান, তার সাথে কোন ধরণের বিরোধ না থাকলেও ঘটনার দিন চকরিয়া পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী এলাকার মৃত ফকির মোহাম্মদের ছেলে নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে সহযোগিরা অস্ত্রের মুখে একটি ল্যান্ডক্রোজার ও দুটি মোটর সাইকেল করে এসে তাকে হাসেরদীঘি ষ্টেশনস্থ নিজের দোকান থেকে অপরহরণ করে নিয়ে যায়। রাতে তাকে রাখা হয় উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ কেরাইনঘ্যাঘোনা নামক চিংড়িজোন এলাকার একটি চিংড়ি প্রকল্পে।
আহত যুবলীগ নেতা হামিদুর রশিদ অভিযোগ করে জানান, ভোররাতে তাকে পাশের একটি বাড়িতে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় মারধরের এক পর্যায়ে তার মোবাইল থেকে বাড়িতে ফোন করে তিনলাখ টাকা মক্তিপন চাওয়া হয়। টাকা না দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তাঁরা। শুক্রবার রাতে দোকান থেকে তাকে গাড়ি তোলার পর পকেটে থাকা নগদ ৮হাজার টাকা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্যাশ থেকে ৭৫হাজার টাকা এবং নিজের দুটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি করেন হামিদুর রশিদ।
চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, যুবলীগ নেতা হামিদুর রশিদকে অপহরণের ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে থানায় একপি এজাহার দায়ের করেছেন। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।