ইয়াবা উদ্ধার করে বিপাকে নারকোটিক্স কর্মকর্তা

images১১.jpg

সফলতা দেখাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা সুমনুর রহমান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৩ জন আসামিসহ ১০ হাজার ইয়াবার চালান ধরে বিশেষ কৃতিত্ব দেখান তিনি। অভিযান চলাকালে প্রভাবশালী মহলের জোর তদবিরকেও আমলে নেননি। আসামি ছেড়ে দেয়া তো দূরের কথা ইয়াবাসহ আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু উল্টো এখন তাকে হেনস্তা করতে মহলটি মিথ্যা গল্পের ফাঁদ পেতেছে। বলা হচ্ছে, সুমনুর রহমান ১৬ হাজার ইয়াবার চালান উদ্ধার করে জব্দ দেখিয়েছেন মাত্র ১০ হাজার।
সূত্র বলছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ থাকায় বিষয়টি নিয়ে এখন তাকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সূত্রে অভিযানের বিষয়ে কিছু নেগেটিভ তথ্য পেয়েছিলাম। কিন্তু তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অভিযানকারী কর্মকর্তা সুমনুর রহমান বয়সে তরুণ এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন কর্মকর্তা। তাই তাকে নিয়ে অনেকের পেশাগত জেলাসি রয়েছে। সে কারণেও অভিযানটিকে বিতর্কিত করতে গুজব ছড়ানো হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন্স) অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ তৌফিক উদ্দীন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, অভিযানটিকে বিতর্কিত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এ অধিদফতরে একশ্রেণীর কর্মকর্তা রয়েছে, যারা নিজেরা কাজ করবেন না। আবার অন্যদেরও কাজ করতে দেবেন না। এ ধরনের কতিপয় কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যা ঘটেছিল : ১৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা। রাজধানীর উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেট। গোপন খবর আসে, এ মার্কেটের সামনে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার লেনদেন হবে। বিশ্বস্ত গোপন সোর্স জানায়, মার্কেটের সামনে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে দু’জন মাদক ব্যবসায়ী হাতবদল করবেন টাকা এবং ইয়াবার চালান। এ খবরের ভিত্তিতে হোসেন মার্কেটের সামনে সাদা পোশাকে অবস্থান নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি দল। অভিযানের জন্য ইন্সপেক্টর সুমনুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশসহ মোট ১১ জনের একটি চৌকস দল (রেইডিং পার্টি) গঠন করা হয়। দলটি সফল অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ২০০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল বাদশা মিয়া, জাকির হোসেন ও মাদক সম্রাজ্ঞী রিতা আক্তার ওরফে শিলা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্সপেক্টর সুমনুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগে আরেকটি অভিযান চালাতে গিয়ে তার পা ভেঙে যায়। কিন্তু ভাঙা পা নিয়েও তিনি ইয়াবা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। অথচ এতবড় একটা সফল অভিযান বিতর্কিত করতে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এভাবে অপপ্রচার চলতে থাকলে একসময় মান-সম্মানের ভয়ে অনেকেই অভিযান চালাতে ভয় পাবেন। এতে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পড়বে।