শিক্ষক সংকটে হ্নীলা পানখালী প্রাইমারী স্কুলে

Teknaf-Pic-B-22-10-16.jpg

এম,আবদুল হক, হ্নীলা |
টেকনাফ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পানখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। ৫শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানকারী অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত সব বিষয়ে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ৮জনের স্থলে রয়েছে ৪জন শিক্ষক। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া বিঘিœত হচ্ছে চরমভাবে। প্রত্যেক বছর পিএসসিতে শতভাগ পাসের হার অর্জনকারী এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতায় বেশ ভাবিয়ে তুলেছে অভিভাবকদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়-১৯৬৩সালে প্রতিষ্ঠিত হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সীমান্ত উপজেলার কয়েকটি প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি। প্রতিষ্ঠার পর হতে পানখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো বিতরণ করে আসছে প্রশংসনীয়ভাবে। এই বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করে অনেক ছাত্র এখন সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সুনাম এবং দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। আবার অনেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য অবস্থানে সুপরিচিত।

উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জনকারী প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জানান-৮জন শিক্ষকের স্থলে মাত্র ৪জন শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছে। অবশিষ্ট একজন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক (ডেপুটেশন)সহ ৪জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে শিশুদের পাঠদান মারাতœকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। তিনি এও জানায়-স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষক স্বল্পতা দূরীকরণে এগিয়ে আসলে শিশুদের পড়াশুনার মান আরো উন্নত হবে বলে মত প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

এরপূর্বে ২০১৫সালে উপজেলার একমাত্র ইউনিট হিসেবে জাতীয় কাব ক্যা¤পুরীতে অংশ গ্রহণের সুযোগ লাভ করে।

পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ টূর্ণামেন্টে উপজেলার শীর্ষ হয়ে জেলা পর্যায়ে অংশ গ্রহণের সুযোগ পায়।

একইভাবে শিশু একাডেমী পুরস্কারে একাধিক বার জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক অপ্রতুলতা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় এই বিদ্যালয়ের ৫শতাধিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েবে বলে অভিভাবক মহল মত প্রকাশ করেন।