যা থাকছে সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

al.jpg

আওয়ামী লীগের দু’দিনের জাতীয় সম্মেলন শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক মানুষ ঢাকায় সমবেত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এত মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে হবে, তা নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ।

এদিকে সম্মেলন সফল করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কাউন্সিলররা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন সেজন্য নেয়া হয়েছে বহুমুখী পদক্ষেপ।

নিরাপত্তার দায়িত্বে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মোট সাতটি গেট দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথি ও কাউন্সিলররা প্রবেশ করবেন। ভিভিআইপিরা প্রবেশ করবেন শিখা চিরন্তন গেট দিয়ে। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, ভেহিকল মিরর সার্চ করে এই গেট দিয়ে গাড়ি সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবে। এই গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী। মূল প্যান্ডেল ও মঞ্চের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে এসএসএফ।

অন্যান্য গেট দিয়ে কারা প্রবেশ করবেন জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন সংলগ্ন গেট দিয়ে আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এবং আমন্ত্রিত বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রবেশ করবেন। রমনা কালিমন্দির গেট ও তার পাশের বাংলা একাডেমি গেট, টিএসসির রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন গেট, চারুকলা সংলগ্ন ছবির হাট গেট এবং তিন নেতার মাজার সংলগ্ন গেট দিয়ে কাউন্সিলররা সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবেন।

মঞ্চ ও অভ্যর্থনা উপ-কমিটির সদস্য ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ জানান, সারা দেশ থেকে আগত ৬ হাজার ৬৭০ জন কাউন্সিলরকে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে প্রতিটি গেটে ছাত্রলীগের ১০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী কর্মী থাকবেন। ভিভিআইপি ও ভিআইপি গেটেও ১০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী কর্মী অতিথিদের বরণ করে নেবেন। এছাড়া সম্মেলনস্থলে কাউন্সিলরদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। একইভাবে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন।

খাদ্য উপ-কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিটি বিভাগকে নির্ধারিত স্থানে খাবার পৌঁছে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শৃংখলা রক্ষার্থে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের যার বাড়ি যেই এলাকায় তাকে সেই এলাকার খাবার বণ্টনের দায়িত্বে দেয়া হয়েছে। এজন্য ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রতিটি বিভাগের জন্য ২০ জন করে স্বেচ্ছাসেবী দেয়া হয়েছে। যারা নিজ নিজ বিভাগ এবং জেলায় খাদ্য পৌঁছে দেবেন।

এছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কাউন্সিলরদের সহযোগিতার জন্য আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আলাদাভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাদের পতাকা উত্তোলনের সময় তাদের সহযোগিতায় প্রতিটি পতাকা স্ট্যান্ডের পাশেই ছাত্রলীগের ১ জন করে মেয়ে থাকবেন। এজন্য মোট ১০০ জন মেয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান ছাত্রলীগ সভাপতি।

মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে : সম্মেলনস্থলে কাউন্সিলররা মোবাইল নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. দিদার আহাম্মদ। তবে কোনো ধরনের ব্যাগ কিংবা দেখতে সন্দেহজনক এমন কোনো ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। এ ছাড়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদসহ দাহ্য পদার্থ নিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

পুরো এলাকাজুড়ে সিসিটিভি : ডিএমপি কমিশনার জানান, সম্মেলনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। তিনটি কন্ট্রোল রুম থেকে সম্মেলনের পুরো এলাকা তদারকি করা হবে। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে। সম্মেলনস্থলে সাতটি গেটে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করে প্রবেশ করানো হবে।

কেমন হবে ৭টি গেট : সম্মেলনের ৭টি প্রবেশ পথই সাজানো হয়েছে। শিখা চিরন্তন ভিভিআইপি গেট ও রমনা কালিমন্দির গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অর্জনের ছবি চোখে পড়বে। চারুকলা সংলগ্ন ছবির হাট গেট দিয়ে প্রবেশকালে চোখে পড়বে প্রধানমন্ত্রীর শিশু ও কৈশোর অবস্থাসহ পারিবারিক বিভিন্ন ছবি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। তার পাশেই থাকবে জাতীয় চার নেতার ছবি।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা : এছাড়া সম্মেলনস্থলে যদি কেউ অসুস্থ হয়, তার জন্য সেখানেই থাকছে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা। কারও যদি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার প্রয়োজন পড়ে তার জন্যও সম্মেলনস্থলে ব্যবস্থা থাকবে। সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থাও থাকবে।