টেকনাফে চাল, লবণ, মাছসহ নিত্যপন্যের দাম আকাশ ছোঁয়া নাভিশ্বাস সাধারন মানুষের

cawo-400x221.jpg

আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ |
টেকনাফে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে চাল, লবণ, মাছসহ নিহ্যপন্যের দাম। নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারন মানুষের। সাধারন মানুষ বলাবলি করছে দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পার হতে চললেও এভাবে উল্লেখিত পণ্যের দাম বাড়েনি। এছাড়া টেকনাফের লোকজনের আয়ের উৎস সাগরে মাছ আহরন, পান, লবণ ইত্যাদি বন্ধ থাকায় নিম্নবিত্ত লোকজনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তাদের বিপদের সময় কেহ সাহায্যে এগিয়ে আসে না। পাশাপাশি নেয় না তাদের বিপদের খবর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ১২ অক্টোবর হতে সাগরে মাছ আহরন বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় যা আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ২২ দিন বন্ধ থাকবে। এতে সাগরে মাছ আহরন করা প্রায় ২০/২৫ হাজার জেলেদের রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাদের এই পেশা ছাড়া অন্য পেশা না থাকায় রয়েছে চরম বিপদে।
কয়েক জন জেলে জানিয়েছেন আমাদের আয়-রোজগারের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে সাগরে মাছ আহরন করে সংসার চালানো। তাও দৈনিক ভিত্তিতে। অনেক সময় মাছ না পেলে অর্ধহারে থাকতে হয়। দেশের অন্যান্য স্থানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় সাগরে মাছ আহরন পূনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা নিলে ও টেকনাফে এখনো জেলে সম্প্রদায়ের জন্য কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে সাগরে মাছ আহরন বন্ধ থাকায় কতিপয় মাছ ব্যবসায়ী এসুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেট করে মিঠা পানির মাছের দাম ২/৩ গুন বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অপর দিকে চালের দাম দিন দিন হু-হু করে বেড়ে চলেছে। বাজার পরিদর্শনে দেখা যায় ৫০ কেজি ওজনের মিনিকেট চাল ১৭শ টাকার স্থলে ২ হাজার হতে ২ হাজার ২শ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। যা দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন,সরকার ইতিমধ্যে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী লোকজনদের জন্য ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি শুরু করেছে। অথচ দেশের অন্যান্য স্থানে ইহা চালু হলেও টেকনাফে এখনো পর্যন্ত শুরু হয়নি।
উপজেলা খাদ্য অফিস জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোক্তাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে। যা বিতরন কাজ চলছে। এদের কার্ড বিতরন শেষ হলে চাল সরবরাহ দেওয়া হবে ডিলারদেরকে। চাল বিতরন শুরু না হওয়ায় চাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মানসে চালের দাম দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। এদিকে ৫ টাকা দামের কেজি লবণ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবণ মালিকেরা লবণের কৃত্রিম সৃষ্টি করে দিন দিন লবণের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা সাধারন জনগনের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার লবণ আমদানি করতে গেলে মিল মালিকদের হৈ-চৈ শুরু হয়ে যায়। এক কথায় বলতে গেলে সীমান্ত এলাকা টেকনাফের সাধারন লোকজন কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছে। দেখার কেহ নেই ।