চকরিয়ায় পরিবেশ বিধ্বংসী তামাক চাষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের র্দীঘমানববন্ধন কর্মসুচি

unnamed-4-2.jpg

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া |
তামাক চাষ কর বন্ধ মায়ের দুধে তামাকের গন্ধ, তামাক চাষ বন্ধ কর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি কর, স্লোগানে লেখা প্লে-কার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানব বন্ধনে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুলের হাজারো শিক্ষার্থী। এসময় তারা তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গণসচেতনতামূলক বিভিন্ন স্লোগানও দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্টান (উবিনীগ) এবং সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে পরিবেশ বিধ্বংসি তামাক চাষ বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সচেতন জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন কর্মসুচীটি উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার এলাকা থেকে কাকারা ইউনিয়ন অতিক্রম করে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ সাত কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়কে পালিত হয়।
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অনুষ্টিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভুমি) মাহবুব উল করিম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খুরশিদুল আলম আলম চৌধুরী, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার, কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম, উবিনীগের কক্সবাজার অঞ্চলের সমন্বয়ক রফিকুল হক টিটো ও শাহ ওমরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন।
অনুষ্টিত মানববন্ধনে উপজেলার জিদ্দাবাজার চাইল্ডস মডার্ন স্কুল, শাহউমরাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহউমরাবাদ উ”চ বিদ্যালয়, মাইজকাকারা, সরকারী প্রাথমিক কিদ্যালয়, কাকারা উ”চ বিদ্যালয়, কাকারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরাজপুর-মানিকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় জনগণ অংশ গ্রহণ করেন।
মানববন্ধন কর্মসুচীর আয়োজক উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিমুল হক আজিম বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো প্রতিবছর মৌসুম শুরুর আগে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তামাষ চাষ করতে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে উৎসাহিত করে। হাতের মুঠোয় অগ্রিম টাকা ঢুকিয়ে দেয়। এতে লোভে পড়ে বেশির ভাগ কৃষক ফসলির ক্ষেতের পরিবর্তে তামাক চাষে ঝুকে পড়ছে। তিনি বলেন, তামাক ক্রয়ের সময় আসলে কোম্পানী গুলো আবার সিন্ডিকেট করে কৃষকদেরকে নানাভাবে জিন্মি করে ফেলেন। ফলে কৃষকরা প্রতিবছরই তামাক বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের সম্মুখীন হয়। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই প্রশাসনের মাধ্যমে তামাক ক্রয়ের নীতিমালা ও মোকাম খুলতে হবে। যাতে কৃষকরা ক্ষতির শিকার না হয়। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, তামাক চাষের কারনে এমনিতে এলাকায় জনগনের মাঝে নানা ধরণের রোগ ব্যধি ছড়িয়ে পড়ছে। তাই জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জনবসতি ও শিক্ষা প্রতিষ্টানের দুরবর্তী এলাকায় তামাক চাষ সরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য প্রশাসনকে তদারকি বাড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, তামাক চাষে কোন ধরনের সার বরাদ্ধ দেয়া হয়না। তামাকের বিকল্প চাষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী এনজিওর মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারী খাস জমিতে পরিবেশ বিধ্বংসি তামাক চাষ করতে দেয়া হবেনা। #